অপরাধ জগতে যখন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা!

স্টাফ রিপোর্টার | মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০১৫
অপরাধ জগতে যখন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা!
পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান)  খেলাকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে তিন ভাইকে খুন করেছে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। চট্টগ্রামে মামা খুন করেছে ভাগিনাকে। কিশোরগঞ্জে ছেলে খুন করেছে বাবাকে। কক্সবাজারে বাবা জবাই করে হত্যা করেছে দুই সন্তানকে। সিলেটে চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় শিশু রাজনকে।

আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতির সীমা কতটা ছাড়িয়ে, ঘটনাগুলো তারই সাক্ষ বহন করছে। একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর যদি দায়ীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা হতো, তাহলে হত্যাকাণ্ডসহ সমাজে অপরাধ প্রবণতা এতটা বৃদ্ধি পেত না। সমাজ এভাবে অপরাধের অভয়ারণ্যে পরিণত হতো না। দুষ্টের দমন শিষ্টের পালনে আইন-শৃঙ্খলা নিজস্বগতিতে না চলায় আজকের এ ভয়াবহ পরিণতি।

যারা আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করবে, তারাই জড়িয়ে পড়ছেন অপরাধ প্রবণতায়। খোদ রাজধানীতে একজন এসআই বাস ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। কদিন আগে লক্ষ্মীপুরে মাদকদ্রব্যসহ আটক এসআইকে আটক করে র‌্যাব। এক এসআই তার সাবেক স্ত্রীকে সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে গণধর্ষণ করেন। যাকে গণধর্ষণ করেন তিনিও পুলিশের কনস্টেবল।

এসব ঘটনা সচেতন জনগোষ্ঠীকে ভাবিয়ে তুলছে। যারা সমাজকে অপরাধ মুক্ত রাখবেন, তারাই যখন অপরাধের হোঁতা তখন সাধারণ মানুষ যাবে কার কাছে। তাদের সামাজিক নিরাপত্তা কে দেবে। তাদের সমস্যায় তারা কার কাছে যাবেন। এমন ভয়াবহ অবস্থায় সাধারণ মানুষ চোখে সর্ষেফুল দেখছেন। সমাজকে এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে পরিত্রাণে চিহ্নিত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া জরুরি।

খেলাকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে তিন ভাইকে খুনের তিন দিন পরও একজন মহিলা ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। বিষয়টি জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। খুনিরা চিহ্নিত, তার পরও ধরতে সমস্যা কোথায়? এভাবে সময়ক্ষেপণ করে খুনীদের নিরাপদে দেশত্যাগের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না তো? এ প্রশ্ন অপরাধ বিশেষজ্ঞদের।

সিলেটে চুরির অপবাদ দিয়ে হত্যা করা হয় শিশু রাজনকে। হত্যার পর এটির ভিডিও রেকর্ড মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ায় দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। চাপ বাড়ে দায়ীদের গ্রেফতারের। এরই ফাঁকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মূল হোঁতাকে টাকার বিনিময়ে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা সত্য হলে দায়ী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থাগ্রহণ জরুরি।

সমাজকে অপরাধমুক্ত করার ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। অপরাধমূলক কর্মকান্ডে তাদের জড়িয়ে পড়া ভালো লক্ষণ নয়। ইদানীং এটা ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়ছে যেন। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা এতে ভীত-সন্ত্রস্থ। সমাজকে অপরাধমুক্তকরণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব ব্যাপক। সে বাহিনীর সদস্যরা যখন নিজেই অপরাধে আশঙ্কাজনকভাবে যুক্ত হচ্ছেন তখন সাধারণ মানুষের আশঙ্কা বাড়াই স্বাভাবিক।