হবিগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে নির্যাতনের ভিডিও চিত্র নিয়ে তোলপাড়

জাতীয় ডেস্ক | শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৫
হবিগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে নির্যাতনের ভিডিও চিত্র নিয়ে তোলপাড়
স্কুল থেকে সব বান্ধবীরা মিলে বাসায় ফিরছে। হঠাৎ এক তরুন তাদের সামনে এসে হাজির এরপর আকস্মিকভাবে একজন ছাত্রীর উপর হামলা। তার ওপর এলোপাতাড়ি চড়-কিল আর ঘুষি চালায়। ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে যায় ছাত্রীটি। নিজে এবং সাথে থাকা কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় নি।
তরুণটি যখন ছাত্রীটিকে নির্মমভাবে মারছিল তখন সহপাঠী ছাড়াও রাস্তায় অনেক মানুষ ছিল।কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। নির্মম সেই দৃশ্যের ভিডিও চিত্র ধারণে ব্যস্ত ছিল বাকীরা। সবার সামনে নীরবে অপমান সহ্য করে ছাত্রীটি। তরুণটি যেমন আচমকা হাজির হয়েছিল তেমনিভাবে আবার চলে যায়। ছাত্রীটিও সঙ্গীদের সঙ্গে ফের বাসার পথে হাঁটা ধরে। হবিগঞ্জ সদরে ঘটেছে এ ঘটনা। এরপরেও, হামলাকারী তরুণটি আরো কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে মেয়েটির ওপর হামলা করে। এবং এসময় অন্য সঙ্গীরা নির্যাতনের ভিডিওচিত্র ধারণ করে।

জধহধ অযসবফ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে গত ১ সেপ্টেম্বর ২৯ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যরে ভিডিও চিত্রটি আপলোড করা হয়। জধহধ অযসবফ ভিডিও চিত্রটি দিয়ে নির্যাতনকারী তরুণটিকে ধরিয়ে দিতে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন। নির্যাতনের সেই ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনলাইনে তোলপাড় চলছে। ভিডিও চিত্র দেখে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সদর উপজেলার রাজনগর এলাকায় হবিগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের রাস্তায় ঘটনাটি ঘটেছে। তবে ঠিক কবে তা ঘটেছে, তা সঠিক করে জানা যায়নি। ওই ছাত্রী কিংবা তরুণ, তাৎণিকভাবে কারো পরিচয় না পেয়ে ভিডিও চিত্র দেখে পুলিশ তদন্তে নামে। তবে পুলিশ জানায় উক্ত ভিডিওটি ১ সেপ্টেম্বর আপলোড করা হলেও ঘটনাটি ঘটে ২৬ আগস্ট।
এ বিষয়ে গতকাল রাতে পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্র সংবাদ মাধ্যমকে জানায়, হামলাকারী তরুণটির নাম রুহুল আমিন। সে হবিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র। তার বাড়ি হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বরইওরি গ্রামে। তার বাবার নাম ফজল মিয়া। সে হবিগঞ্জ শহরের রাজনগর এলাকায় তার মামা মোবারক হোসেনের বাসায় থেকে লেখাপড়া করে আসছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হবিগঞ্জ শহরের রাজনগর এলাকার ওই ছাত্রীকে একই এলাকার মোবারক হোসেনের ভাগ্নে রুহুল আমিন দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এ নিয়ে কয়েকবার রুহুল আমিনের মামার কাছে নালিশ দেন ছাত্রীর বাবা। কিন্তু এতে কাজ হয়নি। ফলে গত ২৬ আগস্ট বিকেল ৪টায় বিদ্যালয় ছুটির পর বাসায় ফেরার পথে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রুহুল আমিন ছাত্রীটির ওপর হামলা করে।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র জানান, ভিডিও চিত্রটি সম্পর্কে তাঁরা ইতিমধ্যে অবগত হয়েছেন। এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে পুলিশ।
হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি নাজিমউদ্দিন গতকাল বৃহস্পতিবার জানান, তাঁরা ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে তদন্তকাজ শুরু করেছেন।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক উপাধ্য অধ্যাপক মুহম্মদ আব্দুজ জাহের বলেন, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই সমাজে কাম্য নয়। অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিলে আর কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে সাহস পাবে না।