চাঁদপুরে চাচার সঙ্গে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীর শারীরিক সম্পর্ক, অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রীকে সেফহোমে

স্টাফ রিপোর্টার | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৫

চাঁদপুরে চাচার সঙ্গে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীর শারীরিক সম্পর্ক, অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রীকে সেফহোমে
 চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রী (১৩) কে নিরাপত্তা সেফহোমে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার বিকালে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মামুনুর রশিদ এ আদেশ দেন।

চাঁদপুরে সেফহোম না থাকলে ওই সময় আদালত স্কুলছাত্রীকে জেলার কাছাকাছি যে কোন সেফহোমে রাখার আদেশ দেন। এর আগে গত ৩ দিন হাজীগঞ্জ থানা হেফাজতে অমানবিক পরিবেশে দিন কাটিয়েছে মেয়েটি। পরে থানা পুলিশ রোববার ছাত্রীটিকে আদালতে পাঠায়।

আদালতে স্কুলছাত্রী ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করে। সে হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন রান্ধুনীমুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী।

হাজীগঞ্জ থানা সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার থানার এসআই মো. শাহজাহান ভূঁইয়া অপহরণ ও নারী, শিশু নির্যাতন মামলায় ভিকটিমকে গাজীপুর থেকে উদ্ধার করা হয়। ওইদিন বিকালে চাঁদপুরের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাছলিমা শারমিনের আদালতে স্কুলছাত্রীকে হাজির করা হয়। সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট তার ২২ ধারায় জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করেন।

অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রীর মা জানান, গত ১০ মার্চ বাড়ির চাচা সম্পর্কীয় আল আমিনের (২০) সঙ্গে সে পালিয়ে যায়। ছাত্রীর মা বাদী হয়ে গত ১ এপ্রিল হাজীগঞ্জ থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। আল-আমিন ছাড়াও ওই মামলায় আল আমিনের বাবা সফিক, মাতা লুৎফা বেগম ও বোন রুনা আক্তারকে আসামি করা হয়। তারা গোপনে বিয়ে করে ছেলের বড় বোন রুনা আক্তারের বাসায় গাজীপুরে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকে পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে তাকে উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ থানায় নিয়ে আসে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে হাজীগঞ্জ বাজারে সালিস চলাকালীন ছেলের বাবা সফিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। সফিকের দেয়া তথ্য মতে গাজীপুর থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়। তবে আল-আমিন পলাতক রয়েছে।

মামলারতদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহ্জাহান ভূঁইয়া বলেন, আদালতের নির্দেশ মোতাবেক মেয়েটিকে আমার হেফাজতে রেখেছি। দেশে তিনটি সেভহোম সেন্টার রয়েছে। নিকটবর্তী সেভহোম সেন্টারে মেয়েটিকে পাঠানোর ব্যবস্থা করবো।

তিনি আরও জানায়, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় চাঁদপুরের বিচারিক হাকিম তাছলিমা শারমিনের আদালতে ওই ছাত্রীকে হাজির করা হয়। সেখানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় মেয়েটির জবানবন্দি রেকর্ড করেন বিচারক।