জামা দেখেই মেয়েকে চিনলেন বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, অক্টোবর ৪, ২০১৫
জামা দেখেই মেয়েকে চিনলেন বাবা
সেদিন ছিল তাসকিয়ার জন্মদিন। পরিকল্পনা ছিল বান্ধবীর বাড়িতে কেককাটার। তাই দুপুর বান্ধবীর বাসার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন বাসা থেকে। কিন্তু তারপর থেকেই ছিলেন নিখোঁজ। মুঠোফোনটিও ছিল বন্ধ।

ঘটনাটা ছিল গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঈদের দুদিন আগের। এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে মেঘনায় ভেসে ওঠে তরুণীর মৃতদেহ। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে হস্তান্তর করে আঞ্জুমানে খাদেমুল ইনসানের কাছে। তারা বেওয়ারিশ হিসেবে ওইদিনই চাঁদপুর পৌর কবরস্থানে মরদেহ দাফন করে।
সংবাদ মাধ্যমে খবর পেয়ে নিখোঁজ তাসকিয়ার বাবা চাঁদপুরে গিয়ে জামাকাপড় দেখে মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন।  

তাসকিয়া সুলতানা তানিয়া (১৮) কুমিল্লা সদরের গোবিন্দপুর এলাকার আবুল কাশেমের মেয়ে। মেয়ের মরদেহ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে আবেদন করেছেন আবুল কাশেম। তাসকিয়ার লাশ কুমিল্লায় নিয়ে দাফন করতে চান ঐ হতভাগ্য বাবা।

গত ১ অক্টোবরে তাসকিয়ার বাবা ও ভাই রনি চাঁদপুর মডেল থানায় এসে পরনের জামা-কাপড় দেখে তাকে চিহ্নিত করেন। ঘর থেকে সে এইসব জামা-কাপড় পরে বের হয়েছিলো বলে তাছকিয়ার ভাই জানান।

চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতেই তাছকিয়ার বাবা আবুল কাশেম চাঁদপুর জেলা প্রশাসক বরাবর দাফন হওয়া লাশ নিজ বাড়িতে পুনরায় দাফন করার জন্যে একটি লিখিত আবেদন করেন। জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মণ্ডল প্রশিক্ষণের জন্যে ভারতে থাকায় তাদের ৪ অক্টোবর আসার জন্য বলা হয়।

তাছকিয়ার ভাই রনি জানান, চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আমীর আবদুল্লাহ মো. মঞ্জুরুল করিম লাশ উত্তোলনের আবেদন গ্রহণ করেছেন। রোববার তাদের আসতে বলা হয়। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়ার কথাও বলা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলনের ব্যবস্থা করবেন বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন।

তাসকিয়া কুমিল্লা পিআই কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার প্রতিবেশী আবুল কালামের ছেলে শামীমের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। ২৭ সেপ্টেম্বর পরিবারের অজান্তে তারা একসাথে বের হয়েছে বলে পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন। লঞ্চযোগে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা তাদের হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয় বলে পুলিশ ধারণা করছে। ৩০ সেপ্টেম্বর শামীমের লাশ পায় ভোলা পুলিশ এবং তাকে ১ অক্টোবর পরিবারের লোকজন কুমিল্লায় নিয়ে দাফন করে।

পরিবারের লোকজন জানায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ছিল তাসকিয়ার জন্মদিন। ওইদিন দুপুরে বান্ধবীর বাসায় গিয়ে কেক কাটবে বলে বাসা থেকে বের হন। তারপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তার মুঠোফোনটিও বন্ধ ছিলো। ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলার বহরিয়া এলাকায় মেঘনা নদীতে এক নারীর লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয় জনতা পুলিশকে খবর দেয়।

চাঁদপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হামিদুল হক ওই মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমানে খাদেমুল ইনসানের কাছে হস্তান্তর করে। পরে আঞ্জুমানে খাদেমুল ইনসান লাশ চাঁদপুর পৌর কবরস্থানে দাফন করে।