বৌকে গাছে বেঁধে পেটালেন শ্বশুর-শাশুড়ি

জেলা প্রতিনিধি | সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৫
বৌকে গাছে বেঁধে পেটালেন শ্বশুর-শাশুড়ি
পরিবারের ছেলে সন্তান কি টাকার খনি? বিয়ে করালেই শ্বশুরবাড়ি থেকে আসবে কাড়িকাড়ি টাকা? আর যতক্ষণ না টাকা আসবে ততক্ষণ চালাও বৌয়ের ওপর নির্যাতন! তাতেও কাজ না হলে ছেলেকে দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিয়ে করাও দেখবে চলে আসবে কাড়িকাড়ি টাকা!

ছেলেকে টাকার খনি হিসেবে মনে করেন লালমনিরহাট জেলা সদরের কুলাঘাট ইউনিয়নের চরখাটামারী গ্রামের আমির হোসেন (৬০) আর তার স্ত্রী আজিরন বেগম (৫৫)।

আমির-আজিরন দম্পতি তার ছেলে আজিজ মিয়াকে (৩৫) বছর পাঁচেক আগে বিয়ে করান একই গ্রামের মৃত আব্দুল বারিকের মেয়ে আমেনা বেগম বাতাসীর (৩০) সঙ্গে। বিয়েতে বেশ টাকা-পয়সা পান তারা।ইতোমধ্যে কন্যা সন্তানের মা হয়েছেন আমেনা।

কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ার পর থেকেই যৌতুকের জন্য চাপ বেড়ে যায় আমেনার ওপর। বাবার বাড়ি থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে আসতে বলা হয়। কিন্তু আমেনা আনতে অস্বীকৃতি জানায়। আর এতেই ক্ষিপ্ত হন শ্বশুর-শাশুড়ি। মাঝে মধ্যেই শারীরিক আর মানসিক নির্যাতন নেমে আসে তার ওপর।  

যৌতুক পেতে ব্যর্থ হয়ে এক পর্যায়ে অন্য কৌশল করে আমেনার শ্বশুর-শাশুড়ি। যৌতুকের জন্য ছেলেকে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্ত মোতাবেক শনিবার দুপুরে ছেলে আজিজকে কনে দেখতে পাঠান। সন্ধ্যার পর এ খবর জানতে পারেন আমেনা। বিষয়টি সত্য কি না তা জানতে চান শ্বশুর-শাশুড়ির কাছে। আর তাতেই তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠেন আমির আর আজিরন দম্পতি।

পুত্রবধূর চুল ধরে টেনে-হেঁচড়ে বাড়ির পাশে সুপারী বাগানে নিয়ে যান। এরপর এক হাত ও এক পা সুপারীর গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলেন। তারপর শুরু করেন বেধড়ক পিটুনি। গ্রামবাসী ভিড় করে নির্যাতন দেখতে। মারধরের চোটে এক সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলে আমেনা।

পরে গ্রামবামী তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। নিরপরাধ গৃহবধূকে এভাবে গাছে বেঁধে নির্যাতন করার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে প্রতিবেশিরা। তারা আমির আর আজিরনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

মারাত্মক আহত আমেনা বর্তমানে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আমেনা বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্ন সময় যৌতুক বাবদ ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। দাবি করা টাকা বাবার বাড়ি থেকে এনে দিতে না পারায় আমার ওপর নেমে আসে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ার পর থেকে আমার ওপর মানসিক নির্যাতন আরো বেড়ে যায়। এরই মধ্যে শনিবার দুপুরে আমার স্বামী আজিজকে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার জন্য কনে দেখতে পাঠান শ্বশুর-শাশুড়ি। সন্ধ্যায় এ ঘটনা জানার পর শ্বশুর ও শাশুড়ির সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা আমার চুল ধরে টেনে-হেঁচড়ে বাড়ির পাশে সুপারী বাগানে নিয়ে যান আমাকে। সেখানে তারা আমার এক হাত ও এক পা সুপারীর গাছের সঙ্গে বেঁধে লোকজনের সামনেই মারধর শুরু করেন। এরপর আমি আর কিছু বলতে পারি না। আমাকে কে হাসপাতালে এনেছে তাও জানি না।’

লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচ এম মাহফুজার রহমান জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় রাতে মামলা করেছেন নির্যাতিত গৃহবধূ বাতাসী। আটক শ্বশুর ও শাশুড়িকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।