হিল্লা বিয়ে না করায় চার বছর ধরে সমাজচ্যুত একটি পরিবার

নিয়াজমোরশেদ. জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ | সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০১৫
  হিল্লা বিয়ে না করায় চার বছর ধরে সমাজচ্যুত একটি পরিবার

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর সদরের চক্রপাড়া গ্রামে হিল্লা বিয়ে না করায় চার বছর ধরে এক দম্পতিকে গ্রামের মাতব্বরেরা সমাজচ্যুত করে রেখেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী আবুল কালাম সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে চক্রপাড়া গ্রামের আবুল কালামের সঙ্গে নাজমা খাতুনের বিয়ে হয়। হঠাৎ তাঁদের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হলে ২০০৪ সালের ১২ আগস্টে আবুল কালাম তাঁর স্ত্রী নাজমা খাতুনকে তালাক দেন। পরে নিজেদের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় সাত বছর পর ২০১১ সালের ১০ নভেম্বরে তাঁরা আবার বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের পর বাদ সাধেন গ্রামের মাতব্বর কাশেম মোল্লা,নাসির, নুর হক ও হাফিজুর।

এ বিষয়ে আবুল কালাম বলেন, তিনি রাগের মাথায় স্ত্রী নাজমা খাতুনকে তালাক দিয়েছিলেন। পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে স্ত্রীকে ফের বিয়ে করেছেন। তাঁদের বিয়ের পর গ্রামের সমাজপতিরা সালিস করে হিল্লা বিয়ে জারি করেন। তিনি হিল্লা বিয়ের জন্য অনেক চেষ্টা করেও ব্যবস্থা করতে পারেননি। এ কারণে তাঁদের সমাজচ্যুত করে রাখা হয়েছে। তাঁদের গ্রামের কোনো অনুষ্ঠানে ডাকা হয় না। প্রতিবেশীদের বাড়ীতে যেতে দেওয়া হয় না। প্রতিবেশীদের বাড়ীতে লুকিয়ে গেলেও সমাজপতিরা জানতে পারলে তাঁদের গালমন্দ করেন। ভয়ে কেউ তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন

না। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে জানালেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। বাধ্য হয়ে তিনি ইউএনওর কাছে ১০ অক্টোবর লিখিত অভিযোগ দেন। পরে ইউএনও এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে তাঁর মাধ্যমে থানায় একটি চিঠি দেন। তিনি চিঠিটি থানার ওসিকে দেন। কিন্তু তারপরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সমাজপতিরা প্রভাবশালী হওয়ায় কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।

আবুল কালামের স্ত্রী নাজমা খাতুন বলেন, ‘একই গ্রামে বাস করছি। অথচ গ্রামের কোনো সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেন না তারা।
আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন,পৌর সদরের চক্রপাড়া গ্রামে হিল্লা বিয়ে না করায় এক দম্পতিকে গ্রামের মাতব্বরেরা সমাজচ্যুত করে রেখেছেন বলে অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গোলাম মো.শাহনেওয়াজ বলেন, অভিযোগ পেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি কে নিদের্শ দেওয়া হয়েছে।