মানিকগঞ্জে শ্রমিকের আত্মহত্যা

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি, | বুধবার, নভেম্বর ৪, ২০১৫
মানিকগঞ্জে শ্রমিকের আত্মহত্যা
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার উত্তর ছনকা গ্রামে কীটনাশক পানে নাজিমুদ্দিন (৩০) নামে একজন আত্মহত্যা করেছেন।

মঙ্গলবার রাতে দুই স্ত্রী’র ভরণ-পোষণে খরচের কলহের সালিশে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

নাজিমুদ্দিন ওই গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে এবং পাশের কালামপুর এলাকায় ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করেন।

নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, ১০ বছর আগে নাজিমুদ্দিন টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার চাঁনপাড়া গ্রামে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে সাগর হোসেন (৭) নামে এক ছেলে রয়েছে।

প্রায় দেড় বছর আগে পরকীয়া সম্পর্কের কারণে নাজিমুদ্দিনকে তালাক দিয়ে বাবার বাড়ি এলাকায় এক ছেলের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করেন ওই স্ত্রী। কিছুদিন পর স্ত্রীকে ফিরিয়ে এনে আবার সংসার শুরু করেন নাজিমুদ্দিন।

এরই মধ্যে আট মাস আগে নাগরপুর উপজেলার সুদানপাড়া গ্রামে দ্বিতীয় বিয়ে করেন নাজিমুদ্দিন। বড় স্ত্রী বাবার বাড়ি ও ছোট স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাড়ি সংসার করতে থাকেন তিনি।

শ্রমিকের কাজ করে সামান্য আয় দিয়ে দুইটি সংসারে খরচ মেটাতে গিয়ে তাদের মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে কয়েকবার গ্রাম্য সালিশও করেন উভয়ের অভিভাবকরা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায়ও উভয়ের অভিভাবক ও স্থানীয় মেম্বারকে এ বিষয়ে ঘরোয়া সালিশে বসেন। সালিশে অভিভাবকরা বকাবকি করে ছোট স্ত্রীকে তালাক দিতে বললে ক্ষুব্ধ হন নাজিমুদ্দিন।

এ কারণে রাত ১১টার দিকে কীটনাশক পান করেন তিনি। স্বজনরা প্রথমে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  ও পরে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন নাজিমুদ্দিনকে।

সাটুরিয়া থানার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ সরকার জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে নাজিমুদ্দিনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।