উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ যাত্রাপুর হাট ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রাজস্ব বঞ্চিত সরকার

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি | মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৪, ২০১৫
উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ যাত্রাপুর হাট ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রাজস্ব বঞ্চিত সরকার

উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপুর হাট নানা সমস্যায় জর্জরিত। দিনের পর দিন কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় হারিয়ে যাচ্ছে হাটের পরিধি এবং খ্যাতি। 

প্রতি সপ্তাহে যাত্রাপুর হাট থেকে হাজারো গরু কেনা-বেচা হচ্ছে। ট্রাকে ট্রাকে যাচ্ছে পাট, ধান, গম, চরিষা, পেঁয়াজ, রসুন। মূল্যবান এ সমস্ত পণ্য আমদানি-রফতানিতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করলেও হাটের সমস্যাদি এবং পরিধি বাড়াতে নেই কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাটে অভ্যন্তরে ট্রাক প্রবেশ করতে না দেয়ায় বিপাকে পড়েছে গরু ব্যবসায়ীরা।

কেননা ঐ সকল ব্যবসায়ী দুর-দুরান্তর থেকে এখানে গরু ক্রয় করতে আসে। কিন্তু তাদের সঙ্গে আনা ট্রাক এ হাটে ঢুকতে না দেয়ায় হয়রানি আর ভোগান্তিতে রয়েছে বৃহৎ এই হাটে আসা গরু ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর হাটে ক্রয়কৃত গরু বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন প্রায় শত শত ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যায়। আর এ ক্রয়-বিক্রয়, গরু করিডোরে সরকার প্রতি মাসে প্রায় ৬০ থেকে ৮০ লক্ষ টাকা রাজস্ব করছে। কিন্তু কুড়িগ্রাম জেলা ট্রাক মালিক সমিতি বেশ কিছুদিন ধরে বাইরের জেলার ট্রাক যাত্রাপুর হাটে প্রবেশ করতে না দেয়ায় এই ঐতিহ্যবাহী হাটটি পথে বসার উপক্রম হয়েছে। বর্তমানে প্রতিনিয়ত লোকশান গুণতে হচ্ছে হাট ইজারাদারসহ সংশ্লিষ্টদের।

সরকারও প্রায় কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। বিভিন্ন জেলার গরু ব্যবসায়ীরা জানান, হাটে আমাদের ট্রাক প্রবেশ করতে না দেয়ায় আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে জীবন যাপন করছি।

ঢাকার থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী হজরত আলী, গাইবান্ধার জামাল মিয়া, চট্রগ্রামের ইয়াছিন আলী জানান, যাত্রাপুর হাটে গরু অনেক কম টাকায় পাওয়া যায় এবং এখানকার মানুষ অনেক ভালো তাই আমরা এখানে ব্যবসা করতে আসি কিন্তু আমাদের ট্রাক প্রবেশ করতে না দেয়ায় আমরা চরম বিপাকে পড়েছি।

যাত্রাপুর হাটের ইজারাদার আবুল কাশেম জানান, কুড়িগ্রাম জেলার মধ্যে যাত্রাপুর হাট গরু ব্যবসার জন্য বিখ্যাত এবং সরকার এই হাট থেকে প্রতি বছরে কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে থাকেন। অথচ হাটের নিজস্ব কোনো জমি নেই। ভাড়া জমিতে হাটের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। হাটের প্রায় ৫ শতাধিক দোকানপাট খাজনা না দেয়ায় হাটের উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব হচ্ছে না।

গরু ব্যবসায়ীরাও এই হাট থেকে বিমুখ হয়ে পড়েছে। তাই সরকারের কাছে জোর দাবি জরুরী ভিত্তিতে এই ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপুর হাটটি সম্প্রসারণে এবং এখানকার জটিলতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এ ব্যাপারে যাত্রাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আঃ গফুর ও পাঁচগাছী ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আমির হোসেন এর সাথে কথা হলে তারা বলেন, যাত্রাপুর হাটটি গরু ব্যবসার জন্য উপযোগী এবং এখানে অনেক লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়াও এ হাট হতে সরকার প্রচুর রাজস্ব আয় করে থাকে। কিন্তু বাইরের ট্রাকগুলি হাটে প্রবেশ করতে না দেয়ায় হাটের ইজারাদার ও শত শত শ্রমিকরা পথে বসার উপক্রম হয়েছে। তাই এই ঐহিত্যবাহী যাত্রাপুর হাটটি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট মহলের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।