তিন আসামি ১৯ দিনের রিমান্ডে আটক আরো ৩

অপরাধ সংবাদ ডেস্ক | রবিবার, নভেম্বর ২৯, ২০১৫
তিন আসামি ১৯ দিনের রিমান্ডে আটক আরো ৩
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় শিয়া সম্প্রদায়ের মসজিদে ঢুকে গুলির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরো তিনজনকে আটক করা হয়েছে। গতকাল শনিবার র‌্যাব সদস্যরা তাদের আটক করেন। এ নিয়ে ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত সাতজনকে আটক করা হলো। যদিও পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে একজনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। অন্য ছয়জনের মধ্যে তিনজনকে গতকাল আদালতের মাধ্যমে ১৯ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

গতকাল আটক করা হয়েছে শিবগঞ্জ উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের হাফিজার রহমানের ছেলে মিনহাজ (১৮), আলাদিপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে শাহিনুর রহমান (২১) ও আমতলী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে রায়হান মিয়াকে (২৮)। এর আগে গত শুক্রবার ভোরে উপজেলার কিচক ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে জুয়েল মিয়া (২৫) ও মাঝিহট্ট ইউনিয়নের দামগাড়া গ্রামের মৃত তোজাম্মেল হোসেনের ছেলে এবং সাবেক সেনা সদস্য আনোয়ার হোসেনকে (৩৫) আটক করে পুলিশ। জুয়েল স্থানীয় আলাদিপুর মাদ্রাসায় পড়েন। শুক্রবার রাতেই ডিবি পুলিশ উপজেলার মোলামগাড়ী গ্রামের বাড়ি থেকে আরো দুজনকে আটক করে। তাঁরা হলেন মোলামগাড়ী এমদাদুল উলুম কওমি মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল শামসুল আলম (৬০) ও তাঁর ছেলে একই মাদ্রাসার শিক্ষক আবু হাসান (২৪)।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গতকাল আবু হাসানকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। আর জুয়েল, আনোয়ার ও শামসুল আলমকে মসজিদে হামলার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশ গতকাল বগুড়ার অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় হাকিম আদালতে হাজির করে। তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিবগঞ্জ থানার পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানায়। বিচারক শ্যাম সুন্দর রায় শুনানি শেষে জুয়েল ও আনোয়ারকে সাত দিন করে এবং শামসুল আলমের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল জানান, অভিযুক্তদের শিবগঞ্জ থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

মিনহাজ, শাহিনুর ও রায়হান মিয়াকে আটক করেছেন র‌্যাব-১২-এর সদস্যরা। র‌্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর আ ফ ম আজমল গতকাল জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

গতকাল সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় আটক তিনজন র‌্যাবের হেফাজতেই ছিল। দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ওই মসজিদের মুয়াজ্জিন মোয়াজ্জেম হোসেনের পরিবারকে গত শুক্রবার বগুড়ার জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দীন ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। ওই ঘটনায় আহত অন্য তিনজনকে ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহও ব্যক্তিগত তহবিল থেকে হতাহতদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।

এলাকাবাসী যেকোনো মূল্যে মসজিদে হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে। নিহত মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে শাহাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাবা কোনো অন্যায় করেননি। টাকা-পয়সা কিংবা জমিজমা নিয়ে তাঁর সঙ্গে কারো বিরোধ ছিল না। তিনি ধর্মের বাইরেও কোনো কথা বলেননি। তবে তাঁকে কেন হত্যা করা হলো? আমি আমার বাবার খুনিদের চেহারা দেখতে চাই। তাদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’

মোয়াজ্জেমের স্ত্রী কমেলা বিবি জানান, গ্রামের কারো সঙ্গে তাঁর স্বামীর ঝগড়া-বিবাদ ছিল না। শিয়া সম্প্রদায়ের অনুসারী হয়ে সেই রীতি অনুযায়ী তিনি ইবাদত-বন্দেগি পালন করেছেন। কেন হামলাকারীরা গুলি করে নিরীহ এই মানুষটি হত্যা করল?

মোয়াজ্জেমের ভাতিজির জামাই কামরুজ্জামান, ভাতিজা রুবেল ইসলাম, শামীম ইসলাম, আলাল, হেলালসহ এলাকাবাসী জানায়, শিবগঞ্জ উপজেলার হরিপুর, চককানু, গোপিনাথপুর, চল্লিশছত্র, রামকান্দি ও আলাদিপুর গ্রামের প্রায় ১৩০ পরিবার শিয়া সম্প্রদায়ের অনুসারী। বাকিরা সুন্নি সম্প্রদায়ের মানুষ। কিন্তু এই দুই সম্প্রদায়ের অনুসারীদের মধ্যে কখনো কোনো বিরোধ ছিল না।

বেশ কয়েকজন অসন্তোষ প্রকাশ করে জানায়, ঘটনার পর দুই দিন পার হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন পর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। রহস্যও উদ্ঘাটন করতে পারেনি তারা।

তবে বগুড়ার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, পুলিশ তৎপর রয়েছে। শিগগির অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

অপরাধ সংবাদ/রা