স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ: ৭০ হাজার টাকায় স্থানীয় মাতব্বরদের ধামাচাপা

অপরাধ সংবাদ | সোমবার, নভেম্বর ৩০, ২০১৫
স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ: ৭০ হাজার টাকায় স্থানীয় মাতব্বরদের ধামাচাপা
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজলোর কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়েছে স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বর। আর ওই সমাধানের নামে ধর্ষণকারীদের কাছ হাতিয়ে নিয়েছে আরও ৫০ হাজার টাকা।

শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের কালিকাপুর বাজারে এ শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার উজ্জলপুর গ্রামের চা-বিক্রেতা আবু তাহের মিয়ার কন্যা ও কালিকাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী (১২) স্থানীয় কালিকাপুর বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় পথিমধ্যে উজ্জলপুর গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় পৌছুলে একই গ্রামের বাচ্চু মিয়ার পুত্র সোহাগ মিয়া (১৯) ও রহমত আলীর পুত্র মোহন মিয়া (২০) স্কুল ছাত্রীকে জোরপূর্বক পার্শ্ববর্তী ধানক্ষেতে নিয়ে হাত-পা বেধেঁ পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় ওই ছাত্রীর আর্ত-চিৎকারে পার্শ্ববর্তী গ্রামের লোকজন এগিয়ে আসলে সোহাগ ও মোহন পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় জনতা তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করেন। এদিকে ধর্ষণের ঘটনার পর থেকে স্থানীয় কিছু মাতব্বর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে উঠ পরে লাগে।

সর্বশেষ শনিবার রাতে ওই গ্রামের নজরুল গাজী, আব্দুস শহীদ মেম্বার ও শাহ শিপন মিয়াসহ স্থানীয় কিছু সুবিধাভোগী লোক অনেকটা জোরপূর্বক বিষয়টি ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেয়। ধর্ষিতার পরিবারকে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে ধর্ষকদের রক্ষা করে তারা।

অপর একটি সুত্র জানায়, সমাধানের বিনিময়ে মাতব্বররা ধর্ষকদের পরিবারের কাছ থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে।

এ ব্যাপারে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা মুনির হোসেন বলেন, মিমাংসার বিষয়টির শুনেছি। তবে আবু তাহের মিয়ার পক্ষ কোন অভিযোগ না দেয়ায় পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছেনা