কুড়িগ্রাম পৌর আওয়ামীলীগে গণপদত্যাগের প্রস্তুতি তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থীর ব্যাপক গণসংযোগ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি | রবিবার, ডিসেম্বর ৬, ২০১৫
কুড়িগ্রাম পৌর আওয়ামীলীগে গণপদত্যাগের প্রস্তুতি তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থীর ব্যাপক গণসংযোগ

কুড়িগ্রাম পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ত্যাগী নেতা কাজিউল ইসলামকে কেন্দ্রিয় সমর্থন না দেয়ায় গণপদত্যাগের প্রস্তুতি চলছে। দলীয় মনোনয়নের নামে চলছে নানা নাটকিয়তা। নৌকা তুমি কার? এই প্রশ্নে বিদ্ধ নেতাকর্মী এবং ভোটাররা।

অপরদিকে, কুড়িগ্রাম পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক পৌর চেয়ারম্যান কাজিউল ইসলামের পক্ষে তৃণমূল নেতাকর্মীরা ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন। এতে দলের হাই কমান্ড কর্তৃক মনোনীত তৃণমূল নেতাকর্মীর কাছে নিস্ক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত এবং পৌর নির্বাচনে ২ বারে পরাজিত ব্যক্তি আব্দুল জলিল বিপাকে পড়েছেন।

আব্দুল জলিলের পক্ষে প্রচার এবং গণসংযোগে ওয়ার্ড সভাপতি এবং সম্পাদকসহ কর্মী সমর্থকরা নির্লিপ্ত থাকায় মাঠ গরম করতে পাচ্ছেন না কেন্দ্রের মনোনীত প্রার্থী আব্দুল জলিল।

গতকাল কুড়িগ্রাম পৌর আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ে ১নং ওয়ার্ডের সভাপতি ওয়ালিউল চঞ্চলের সভাপতিত্বে  অনুশিবছদ বিশেষ সভায় অন্যান্য ওয়ার্ডের সভাপতি এবং সম্পাদকরা বলেন- যে ব্যক্তি দীর্ঘ ৭টি বছর ধরে দলীয় কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত নেই তিনি কিভাবে দলীয় সমর্থন পেলেন- তা ভাবতে কষ্ট হচ্ছে।

সম্প্রতি ১৫ই অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় পর্যন্ত যিনি কোনোপ্রকার ভূমিকা পালন করেনি তাকে আমরা কোনোভাবে মেনে নিতে পারছি না। আওয়ামীলীগেও এখন নোংরা রাজনীতি শুরু হয়েছে। এই নোংরামিতে আর থাকা সম্ভব নয়, তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি একযোগে পদত্যাগের।
নেতাকর্মীরা জানান- নিস্ক্রিয় নেতা আব্দুল জলিল জেলা নেতাদের সবসময় কুটক্তি করে থাকেন। এমনকি কুড়িগ্রামের সাবেক এমপি এবং জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জাফর আলীকে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে গালিগালাজ করে থাকেন।

শুধু তাই নয়, আওয়ামীলীগের কাউন্সিলে জাফর আলীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরিকাঘাত করার চেষ্টার অপরাধে যার ভাই জেল খাটলেন সেই ব্যক্তি কিভাবে কেন্দ্রীয় মনোনয়ন পেলেন- এটা অতীব দুঃখের বিষয়।

পৌর আওয়ামীলীগের ৬৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির নির্বাচনী জরুরী সভায় মেয়র পদে ২জনের নাম প্রস্তাব করে কাজিউল ইসলাম এবং সাইদুল ইসলাম দুলালের নাম জেলা কমিটির নিকট পেশ করা হয়। পরবর্তীতে জেলা আওয়ামীলীগের নির্বাচনী জরুরী সভায় আরো দু’জন আলহাজ্ব রুহুল আমিন দুলাল এবং মজিদুল সর্দারের নাম যুক্ত হয়। দু’দিনব্যাপী জেলা আওয়ামীলীগ, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ এবং পৌর আওয়ামীলীগের মিটিংয়ে ৪জন প্রার্থীর মধ্যে অপর ৩জন প্রার্থী কাজিউল ইসলামকে সমর্থন জানান এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্র মোতাবেক পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি, সম্পাদক উপজেলা, আওয়ামীলীগের সভাপতি, সম্পাদক এবং জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সহ ৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির স্বাক্ষরিত পত্রে একক প্রার্থী হিসেবে কাজিউল ইসলামকে মেয়র প্রার্থী মনোনীত করে দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী বিধিসম্মতভাবে কেন্দ্রে প্রেরণ করা হয়।

এতে কাজিউল ইসলামের নাম দলীয় মনোনীত প্রার্থী হিসেবে টিভি চ্যানেল এবং এবং বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রচার হলেও পরবর্তীতে শুরু হয় নানা নাটকিয়তা। এই নাটকিয়তা বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ কুড়িগ্রামের পৌর ভোটারদের মাঝে চমক সৃষ্টি করে। খোদ আওয়ামীলীগে একেক সময় একেক সিদ্ধান্তের কারণে দলে এখন পর্যন্ত নানা বিভক্তি বিরাজ করছে। ফলে এখন পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটাররা জানেন না কে পাবে নৌকা প্রতীক?
এদিকে, ৫ই ডিসেম্বর মনোনয়ন দাখিলকারী কাজিউল ইসলাম, আব্দুল জলিল এবং সাইদুল হাসান দুলাল যাচাই-বাছাইয়ে ৩ প্রার্থীই বৈধ হিসেবে চূড়ান্ত হয়।

এব্যাপারে দলের জন্য নিবেদিত পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক চেয়ারম্যান কাজিউল ইসলামকে দলীয় মনোনয়ন না দিয়ে নিস্ক্রিয় নেতা আব্দুল জলিলকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার ব্যাপারে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম মঞ্জু মন্ডলকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন- কেন্দ্রীয় নেতা তথা দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে আমরা তার হয়েই কাজ করবো। পৌর আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের গণপদত্যাগের বিষয়টি তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।