বিএনপি নিঃশেষের পথে: এরশাদ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৮, ২০১৫
বিএনপি নিঃশেষের পথে: এরশাদ
জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এখন নিঃশেষের পথে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত এইচএম এরশাদ।

তিনি বলেন, যে বিএনপি একদিন জাতীয় পার্টিকে নিঃশেষ করার চক্রান্ত করেছিল। জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের জেলে পুড়েছিল। আমাকে স্বপরিবারে জেলে পাঠানো হয়েছিল। সেই বিএনপিই আজ নিঃশেষের পথে।

মঙ্গলবার দুপুরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কুচবিহার জেলার দিনহাটায় পৈতৃকবাড়ীতে তিন দিনের ব্যক্তিগত সফরে যাওয়ার সময় লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর জিরোপয়েন্টে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় এইচএম এরশাদের ছেলে এরিক এরশাদ, ছোটভাই জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী গোলাম মোহাম্মদ কাদের, ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুল ওহাব ও গাড়ি চালক আব্দুল মান্নান এরশাদের সাথে ভারতে যান।

এর আগে বুড়িমারী স্থলবন্দর কাস্টমসের সহকারী কমিশনার এনামুল হকের আমন্ত্রণে তার কার্যালয়ে চা-চক্রে কিছুক্ষণ যাত্রা বিরতি করেন এইচএম এরশাদ।

এসময় পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলম, জাতীয় পার্টির রংপুর মহানগর আহবায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সদস্য সচিব এসএম ইয়াছির, রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক হুসেইন মকবুল শাহরিয়ার, কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল, পাটগ্রাম পৌরসভার মেয়র প্রার্থী আব্দুল হামিদ বেঞ্জুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।    

এসময় দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন এরশাদ। তিনি বলেন, দেশবাসী  আপাতত নিরাপত্তা চায়। শান্তিতে বাস করতে চায়। নিরাপত্তার অভাব। মানুষের মনে আশঙ্কা। আগামী দিন কি হবে? মানুষ অনিশ্চিত।

৩০ ডিসেম্বর পৌরসভার নির্বাচন প্রসঙ্গে এইচএম এরশাদ বলেন, এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য করার কারণে যদি আওয়ামী লীগের সকল প্রার্থী হেরেও যায়। তাতেও সরকারের ক্ষমতা যাবে না। বরং নির্বাচন যদি সুষ্ঠ ও বিশ্বাসযোগ্য হয় তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে বর্তমান সরকারের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে। জাতীয় পার্টি এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।

তিনি বলেন, কিছু পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় অনেক প্রার্থীকে হুমকি-ধামকি দেয়া হয়েছে। তাই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠ হবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে অনেক বিভ্রান্তি রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নবম শ্রেণি পাসের পর ভারত থেকে বাংলাদেশে চলে আসি। সেখানে আমার দাদা-দাদিসহ অনেক স্মৃতি রয়েছে। আমার চাচাতো ভাই মোছাব্বের হোসেন, তোজাম্মেল হোসেন ও আহসান হাবীবদের সাথে দেখা-সাক্ষাত করবো। মায়ার টানেই সেখানে যাচ্ছি।’

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, চাচাতো ভাইয়ের মেয়ের বিয়ের দাওয়াতে অংশ নিতেই তাঁর এই সফর।