হতাশা থেকে বাঁচতেই সাংবাদিকের নদীতে ঝাঁপ?

চাঁদপুর প্রতিনিধি, | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২২, ২০১৫
হতাশা থেকে বাঁচতেই সাংবাদিকের নদীতে ঝাঁপ?

যাত্রীবাহী লঞ্চ এম.ভি তাকওয়া থেকে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিখোঁজ সাংবাদিক আওরঙ্গজেব সজিব দ্বিতীয় বিয়ের পর হতাশাগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে, স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের খবর জানা নেই বলে জানান সজিবের স্ত্রী মোরশেদা বেগম নিশি।

নিশি জানান, গতকাল রবিবার রাতে পুলিশের কাছ থেকে দ্বিতীয় স্ত্রীর কথা জানতে পারেন। এর আগে বিষয়টি জানা ছিল না।

চাঁদপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ মোঃ এরশাদ আলম জানান, সজিব বগুড়ায় ছয় মাস আগে গোপনে রুবি বেগম নামে এক মেয়েকে বিয়ে করেন। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে মানসিকচাপে ভুগতে থাকেন। এর থেকে মুক্তি পেতে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি।

তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় স্ত্রী রুবি বেগম ও শ্বশুর বাড়ির আত্মীয় স্বজনরা সজিবের মৃত্যুর খবর শুনে তার কাছে থাকা সজিবের মোবাইলে ফোন করে। এরপরই দ্বিতীয় স্ত্রী থাকার বিষয়ে পুলিশ অবগত হয়।

নৌ-পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বি.এম নুরুজ্জামান দাবি করেন, পারিবারিক কলহের কারণেই সাংবাদিক সজিব নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

এদিকে নিখোঁজের দুইদিন পার হলেও সজিবের লাশ উদ্ধার হয়নি। পরিবারের লোকজন লাশের সন্ধানে চাঁদপুর, মুন্সিগঞ্জ, মুক্তাপুর ও নারায়ণগঞ্জের বক্তারবলি এলাকায় নদীতে ট্রলারযোগে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

রবিবার রাতে সজিবের প্রথম স্ত্রী মোরশেদা বেগম নিশী ও তার ছেলে নুর মোহাম্মদ সোহানসহ আত্মীয় স্বজনরা চাঁদপুর নৌ-ফঁড়িতে আসেন এবং সজিবের লঞ্চে রেখে যাওয়া মোবাইল, মানি ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নৌ-পুলিশের কাছ থেকে বুঝে নেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকা নৌ-টার্মিনাল থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি তাকওয়া ছেড়ে আসে। পথিমধ্যে সকাল পৌনে ১১টায় লঞ্চটি মুন্সীগঞ্জ মুক্তারপুর ব্রিজ পার হওয়ার পর লঞ্চের তৃতীয় তলা থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন সজিব। ঝাঁপ দেয়ার আগে তিনি মোবাইল , মানিব্যাগ পাশে রেখে নেন।

পরে দুপুর ১.১৫ মিনিটে লঞ্চটি চাঁদপুর ঘাটে পৌঁছার পর লঞ্চের কেরানি লিটন সজিবের রেখে যাওয়া ২টি মোবাইল, মানিব্যাগ ও মালামাল চাঁদপুর নৌ-পুলিশের ইনচার্জ এরশাদ হোসেনের কাছে পৌঁছে দেয়। মানিব্যাগে ২টি পরিচয়পত্র, একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিলো।

পরিচয় পত্রের তথ্য অনুযায়ী সজিবের বাসা ঢাকার চকবাজার থানার কমল দাহ (উর্দু রোড) সড়কে। তার পিতার নাম মৃত নূর মোহাম্মদ। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলা ভিশনের ঢাকা মেডিকেল প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টারসহ আরও কয়েকটি মিডিয়ায় কর্মরত ছিলেন।