ভোলায় পৌরসভা নির্বাচনে হিন্দু ভোটারদের বাড়ি ঘরের সামনে রক্ত ছিটিয়ে আতংক

শিশির হাওলাদার, ভোলা থেকে ॥ | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২২, ২০১৫
ভোলায় পৌরসভা নির্বাচনে হিন্দু ভোটারদের বাড়ি ঘরের সামনে রক্ত ছিটিয়ে আতংক

ভোলা  পৌরসভার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে র্দুবৃত্তরা রবিবার রাতে সংখ্যালঘু হিন্দু ভোটারদের বাড়ি-ঘরের সামনে রক্ত ছিটিয়ে দেয়া হয়েছে।  এতে করে হিন্দু ভোটারদের মধ্যে আতংক সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দিন দিন ভোলার নির্বাচনী এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে।

৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রফুল্ল পন্ডিত, সুভাশ মাল , মালতী ও আরতী রানীসহ একাধিক এলাকাবাসী  জানান, রাতের আধারে কে বা কারা হিন্দু বাড়িতে ঢুকে কোদালি বাড়ি, বেপারী বাড়ি ও সিকদার বাড়ির বেশ কিছু ঘরের সম্মুখে রক্ত ছিটিয়ে দিয়ে সটকে পড়ে। সকাল বেলা বাড়ির লোকজন ঘুম থেকে উঠে বিষয়টি টের পায়। এতে হিন্দু ভোটারদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম-সম্পাদক রবিশ্বর হালদার বলেন, পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী বশির আহমেদ ও মেয়র প্রার্থী হারুন অর রশিদ পথসভায় রক্তের বন্যা বইয়ে দেবেন বলেছেন। এটি তারই নমুনা। প্রফুল্লচন্দ্র মন্ডল বলেছেন, র্দুবৃত্তরা হিন্দুদের ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকী প্রদর্শন করে এই গরুর রক্ত ছিটিয়েছেন। গতকাল তাঁদের একাদশি ছিল। তাঁরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

  ভোলা সদর পৌরসভার আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ও  পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ইরফানুর রহমান বলেন, ভোলা পৌরসভায় প্রায় ৩২ হাজার ভোট। এর মধ্যে ৯ হাজার হিন্দু ভোট। হিন্দু ভোটারদের বাড়ি-ঘরের সামনে গরুর রক্ত ছিটিয়ে ভয়ভীতি দিচ্ছে কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্যে। আমরা প্রশাসনের নিকট এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। হিন্দু ভোটাররা যেনো ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিরাপদে ভোট দিতে পারে তার নিশ্চয়তা চাই।

তবে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হারুন অর রশিদ ট্রুম্যান ও বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী বশির আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছে। ঘটনাটি আমরা জানিও না, শুনিও নি। এবার আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে হিন্দুরা ভোট দেবে না, তাই এ নাটক সাজিয়েছে। ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর খায়রুল কবীর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, রিটানিং কর্মকর্তাকে লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে দেখা হবে।

এদিকে দৌলতখান পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র আনোয়ার হোসেন কাকন সাংবাদিকদের বলেন, রবিবার রাতে দৌলতখানের দক্ষিণ মাথায় উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক খন্দকার জসিম উদ্দিনকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর লোকজন পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। ওই দিন পিটিয়েছে যুগ্ম-সম্পাদক শাজাহান সাজুকে। সোমবার উপজেলা বাজারের উত্তর মাথায় পৌর বিএনপির সভাপতি নাসির উদ্দিন ও কাউন্সিলর প্রার্থী

জাফর হোসেনকে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থীর লোকজন ধাওয়া করে। তবে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জাকির হোসেন তালুকদার বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন ওইসব বিএনপির সাজানো নাটক।

দৌলতখান পৌরসভা নির্বাচনের রিটানিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়ে ওসিকে তদন্তের জন্য বলা হয়েছে।