মধুবৃক্ষের রস সংগ্রহে ব্যাস্ত শিয়ালি

মো.ফরিদ উদ্দিন বিপু কলাপাড়া প্রতিধি | সোমবার, জানুয়ারী ৪, ২০১৬
মধুবৃক্ষের রস সংগ্রহে ব্যাস্ত শিয়ালি

ঘনকুয়াশার চাদর জড়িয়ে শীতালী উৎসবে মৌতাত মেখে বাংলার প্রকৃত মাঝে চলছে ‘পউষ’ মাসের উৎসব আনন্দ। শহরের হিমোচ্ছাস মিইয়ে যাওয়ার উপক্রম হলেও গ্রামীন জনপদে ‘প্রকৃতিক শরবত’ সুমিষ্ট খেজুর রস আমোদ ছড়াচ্ছে বৈক। আল্লাহ শানে যাল্লালুহুর অফুরান্ত নেয়ামতের কিছু উপকরণ তার বান্দারা ভোগ করার সুর্বন সুযোগ পেয়ে থাকে।

বৈচিত্র্যময় বাংলা প্রকৃতি সবর্ত্রই এ আয়োজনের ঘনোঘটা চোখ পড়ে। মধুবৃক্ষের রস সংগ্রহে ব্যস্ত শিয়ালি এর ফাকে মধুবৃক্ষের রস’র স্বাদ নিচ্ছে ‘বুলবুলি পাখি’। দু’তিনদিন পর পর নাল চেছে পড়ান্ত বিকেলে সাধারনত মাটির পাতিল ও প্লাষ্টিকের বোতল পাতা হয় ফোঁটা ফোঁটা রস পড়ে সারারাত জমা হয় গাছ প্রতি  তিন থেকে পাঁচ লিটার। প্রতি হাড়ি বিক্রি হয় ৬০-৮০ টাকা। পৌষ মাসের প্রধান ঐশ^র্য খেজুর রস। পিঠা পায়েস তৈরির ধুম পড়ে যায় প্রতিটি ঘরে ঘরে। নতুন চালে খেজুর রস সহযোগে রান্না করা হয় মোহনীয় ঘ্রানযুক্ত সুস্বাদু পায়েস বানানো হয়, ভাপা, চিতই. দুধচিতই, তেলের পিঠা, দলাপিঠা, দুধপুলিসহ নানা রকমের পিঠা।

তখন নাওরি আনা নেওয়ার কাজে ব্যস্ত থাকে ছোট ভাই বা দেবর, বেড়ে যায় জামাই আদর। কলাপাড়া উপজেলার সুখী-নীলগঞ্জ গ্রামের শিয়ালি আমির মিয়া জানান, বছর দুয়েক আগে রস বিক্রি করে ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ ও সংসার মোটামুটি ভলোই চলছিলো । খেজুর গাছ কেটে  ইট ভাটায় জ্বালানী কাজে ব্যবহারের ফলে খেজুর গাছ কমে যাওয়ায় এখন অনেক কষ্ট হচ্ছে সংসার চালাতে। কৃষিবিদরা জানান, খেজুর গাছ লাগাতে তেমন কোন অর্থের প্রয়োজন হয় না। রাস্তার পাশে, জমির আইলে প্রচুর খেজুর গাছ লাগানো যায়। 

এর ফলে ঝড় জলোচ্ছাসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায় ও খেজুর গাছের রস জাল দিয়ে গুড় তৈরি করে বাংলাদেশের চাহিদা পুরন করে বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।