ফুলবাড়ীর ফেলানী হত্যাকাণ্ডের ৫ বছর

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল.গাইবান্ধা প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ৭, ২০১৬
ফুলবাড়ীর ফেলানী হত্যাকাণ্ডের ৫ বছর
আজ ৭ জানুয়ারি। ২০১১ সালের এই দিনে ভারতীয় রক্ষী বাহিনী বিএসএফ-র গুলিতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের স্বীকার হয় কুড়িগ্রামের
রামখানা অনন্তপুর সীমান্তে ফেলানী।

দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা কাঁটাতারে ঝুলে থাকে ফেলানীর মৃত দেহ। গণমাধ্যমসহ বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ভারত। দুই দফায় বিচারিক রায়ে খালাস দেয়া হয় অভিযুক্ত বি এস এফ সদস্য অমিয় ঘোষকে। এ রায় প্রত্যাখ্যান করে ভারতীয় মানবাধিকার সংগঠন মাসুম এর সহযোগিতায় ভারতীয় সুপ্রিমকোর্টে রিট আবেদন করে ফেলানীর পরিবার।

দিনটি ছিল শুক্রবার। ভোর সোয়া ৬টার দিকে ভারতীয় বিএসএফ"র গুলিতে বিদ্ধ হয়ে আধাঘণ্টা ধরে ছটফট করে নির্মমভাবে মৃত্যু হয় কিশোরী ফেলানীর। এর পর সকাল পৌনে ৭টার থেকে নিথর দেহ কাঁটাতারের উপর ঝুলে থাকে দীর্ঘ সাড়ে ৪ ঘণ্টা। এ ঘটনায় বিশ্বব্যাপী তোলপাড় শুরু হলে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহারে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে ফেলানী হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়। এ কোর্টে স্বাক্ষীদেন ফেলানীর বাবা নূর ইসলাম ও মামা হানিফ। ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর আসামী অমিয় ঘোষকে খালাস দেয় কোর্ট।

পরে রায় প্রত্যাখ্যান করে পুন:বিচারের দাবী জানায় ফেলানীর বাবা। ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পূর্ণ:বিচার শুরু হলে ১৭ নভেম্বর আবারও আদালতে সাক্ষ্য দেন ফেলানীর বাবা। ০৩ জুলাই ২০১৫ এ আদালত পুনরায় আত্মসীকৃত আসামী অমিয় ঘোষকে খালাস দেয়। এতে হতাশা প্রকাশ করেন ফেলানীর স্বজনরা।

ফেলানীর মামা আবু হানিফ জানায়, ফেলানীকে নিয়ে বিচারকদের রায় গ্রহণযোগ্য নয়, আমরা হতাশ।এ রায় প্রত্যাখ্যান করে ভারতীয় মানবাধিকার সংগঠন মাসুম এর সহযোগিতায় ১৪ জুলাই ২০১৫ তারিখে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টে রিট করেন ফেলানীর বাবা নূর-ইসলাম । সুপ্রিম কোর্ট শুনানি শেষে রিট আবেদন গ্রহণ করে আদেশ প্রদান করে। এখানে সুবিচার প্রত্যাশা করেন তিনি।

ফেলানীর মা জাহানারা বেগম বলেন, এ আদালতে বিচার না পেলে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার চাইবো।

কুড়িগ্রাম পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাড. এস,এম,আব্রাহাম লিংকন বলেন, ফেলানী হত্যার দায় স্বীকার করার পরেও বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষ বেকসুর খালাস পাওয়ায় ন্যায় বিচার নিশ্চিত হয়নি।

তবে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চে শুনানি শেষে ফেলানীর পরিবারের রিট আবেদন গ্রহণ করে আদেশ দেয়া হয়েছে, তাই এবার ফেলানীর পরিবার ন্যায় বিচার পাবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। ফেলানী হত্যাকাণ্ডের সুবিচারের মাধ্যমে দুই দেশের সরকারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হোক, বন্ধ হোক গোলাগুলি, বন্ধ হক সীমান্ত হত্যা এমনটাই প্রত্যাশা সীমান্ত-বাসীদের।

অপরাধ সংবাদ/রা