রাজারহাটে দাদন ব্যবসায়ীর হাতে জিম্মি সংখ্যালঘু পরিবার টাকা না পেয়ে পূজামন্ডপ ও বাড়িঘর ভাংচুর-আহত ৫

কুড়িগ্রাম থেকে, রাশিদুল ইসলাম | সোমবার, জানুয়ারী ১৮, ২০১৬
রাজারহাটে দাদন ব্যবসায়ীর হাতে জিম্মি সংখ্যালঘু পরিবার টাকা না পেয়ে পূজামন্ডপ ও বাড়িঘর ভাংচুর-আহত ৫
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে এক সংখ্যালঘু পরিবার দাদন ব্যবসায়ী কনক সরকারের কাছে জিম্মি হয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সুদের টাকা সময় মতো না পেয়ে পূজামন্ডপ ভাংচুর। এতে আহত হয়েছে ৩জন মহিলাসহ ২জন পুরুষ।
জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলাধীন নাজিমখান এলাকার অবরসপ্রাপ্ত শিক্ষক সুশিল কুমার দেড় বছর পূর্বে পাশ্ববর্তী উমর মজিদ ইউনিয়নের মহসিন সরকারের ছেলে চিহ্নিত দাদন ব্যবসায়ী কনক সরকারের কাছে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দাদন (সুদ) বাবদ গ্রহণ করেন। এই টাকার সুদ সময় মতো দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ইতোমধ্যে ওই শিক্ষকের মেয়ের রংপুরস্থ সাতগাড়া মৌজার আড়াই শতক জমি জোর করে লিখে নেয় দাদন ব্যবসায়ী কনক সরকার।  যার আড়াই শতক জমির মূল্য ১১ লক্ষ টাকা। এতেও ক্ষান্ত হননি ওই দাদন ব্যবসায়ী। তার দাবি গত দেড় বছরে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার সুদ এখন ২০ লক্ষ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই অজুহাতে সম্প্রতি ওই শিক্ষক সুশিল কুমারের নাজিমখানস্থ সোমনারায়ণ মৌজার ৭১ শতক জমি জোর পূর্বক লিখে নেয়। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২২ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে ৩৩ লক্ষ টাকার জমি লিখে নিয়েও আরো ১০ লক্ষ টাকা দাবি করে গত ১৫ জানুয়ারি’১৬ইং শুক্রবার দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে দাদন ব্যবসায়ী কনক সরকারের নেতৃত্বে মিন্টু, জাহাঙ্গীর, রুমন, শহিদুল, লিমন, সুমন ও রহমান মোক্তার সহ প্রায় ২০/২৫জনের একটি সংর্ঘবদ্ধ দল হামলা চালিয়ে পূজামন্ডপ, ঘরের দরজা-জানালা, বাড়ির চেকার ভাংচুর করে এবং সুশিল চন্দ্রের স্ত্রী দিপালী রাণী সিং, লাভলী, বিধান চন্দ্র এবং নিখিল চন্দ্রকে বেধড়ক মারপিট করে। এতে গুরুতর আহত হয়ে রংপুর মেডিকেলে মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন দিপালী রাণী সিং। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। দাদন ব্যবসায়ী কনক সরকার বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে ১ সপ্তাহের মধ্যে তার দাবিকৃত ১০ লক্ষ টাকা না পেলে পুরো পরিবারের সদস্যদেরকে জীবন নাশের হুমকি দেয়। জীবনের নিরাপত্তার জন্য রাজারহাট থানায় মামলা করতে গেলে পথিমধ্যে কনক সরকারের গুন্ডা বাহিনী পথরোধ করে মামলা না করার জন্য হুমকি দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয় সুশিল চন্দ্রের ছেলে নিখিল চন্দ্র রায়কে। এমতাবস্থায় ওই সংখ্যালঘু পরিবারটি পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
এলাকার প্রবীণ গজেন চন্দ্র বর্মণ, সুমন্ত চন্দ্র বর্মণ এবং বিরেন্দ্র নাথ বর্মন জানান, কনক সরকারের কাছে এমন অনেক পরিবার জিম্মি হয়ে দাদনের টাকা শোধ করতে গিয়ে সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছে।

অপরাধ সংবাদ/রা