ভোলায় দুই দিনে শীতের তীব্রতা ৩ জনের মৃত্যু

শিশির হাওলাদার, ভোলা থেকে | রবিবার, জানুয়ারী ২৪, ২০১৬
ভোলায় দুই দিনে শীতের তীব্রতা ৩ জনের মৃত্যু

দ্বীপ জেলা ভোলায় গত কয়েক দিন ধরে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় সাধারন মানুষ চরম দুভোর্গে রয়েছে।    বিশেষ করে তীব্র শীতে নিন্ম আয়ের সাধারন মানুষ রয়েছে চরম বিপাকে। শীতের কারনে ঘর থেকে দিনমজুর আর খেটে খাওয়া মানুষ পারছেনা বের হতে । জেলার হাসপাতালগুলোতেও শীতজনিত রোগে অসুস্থ রোগীদের ভীড় বাড়ছে। হাড় কাপানো শীতে গত দুই দিনে মারা গেছে ৩ জন ।

এদিকে জেলায় রবিবার মৌসুমে সর্বনি¤œ ৯ ডিগ্রী সেলিসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করে। এতে করে আরো বেশী দুর্ভোগে পড়েছে বেড়ি বাধের হত দরিদ্র ছিন্নমূল মানুষ।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, এক দিকে শীত অন্য দিকে হীমেল হাওয়ায় তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভোলার ছিন্নমূল হত দরিদ্র মানুষ। হাড় কাপানো শীত যেন দিন দিন বেড়েই চলছে, আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারনের জন্য কেউ কেউ চেষ্টা করলেও শিশু ও বয়স্করা পড়ছেন চরম বিপাকে। শীতের কারনে কাজে যেতে পারছেনা শ্রমজীবী রিক্সা চালক, দিন মজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ।

রিক্স চালক ছাইফুল্লাহ বলেন, গত কয়েক দিন শীতের কারনে ঘর থেকে বের হতে পারছে। যদিও কষ্ট করে বের হয় তার পর বাইরে লোকজনও পাওয়া যায় না। দিনমজুর মিজান বলেন, শীতের কারনে তাদের কাজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।অপর দিকে জেলার হাসপাতালগুলোতে নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুদের ভীড় ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয়রা জানিয়েছে, শীতজনিত কারনে জেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরা উপজেলায় হাজির হাট ইউনিয়নের চর ফয়েজউদ্দিন গ্রামে ২ জন ও মনপুরা ইউনিয়নে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। 

তারা হচ্ছেন সেরাজুল হক(৮৫),নুরুল হক(৭০) ও অভিনাশ নন্দি(৮৮)। ধারনা করা হচ্ছে তীব্র শীতে তাদের মৃত্যু হয়েছে। শীতার্ত বহু মানুষ শীত বস্ত্র পায়নি বলে অভিযোগ তাদের। তবে আবহাওয়া অফিস বলছে, মৌসুমে সর্বনি¤œ তাপমাত্র রেকর্ড হয়েছে, জানুয়ারী শেষ সপ্তাহ পর্যান্ত তা অব্যাহত থাকবে।
ভোলা  আবহাওয়া পর্যবেক্ষন অফিসের ইনচার্জ জামিনুর রহমান বলেন,এই মৌসুমে ভোলার সবূ নিন্ম তাপমাত্র রের্কড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। এই মাসের শেষ পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।


ভোলা জেলা প্রশাসক মো: সেলিম রেজা বলেন, শীতার্ত মানুষের দুর্ভোগ লাগবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে। শতভাগ শীর্তাত মানুষের হাতে কম্বল দেয়া সম্ভব না হলেও বেশীর ভাগ দুর্গত মানুষের মধ্যে কম্বল দেয়া হয়েছে। প্রশাসন শীর্তাত মানুষের পাশে দাড়িয়েছে।