শরীয়তপুরে কেজি স্কুলে ছাড়পত্র না পাওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

শেখ জাভেদ, শরীয়তপুর প্রতিনিধি | বুধবার, জানুয়ারী ২৭, ২০১৬
শরীয়তপুরে কেজি স্কুলে ছাড়পত্র না পাওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
শরীয়তপুর সদর উপজেলার প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত কালেকটরেট কিশলয় কেজি স্কুলের পরিচালক মুকুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ছাড়পত্র না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে ছাত্র-ছাত্রীর অভিভাবকগণ অত্র স্কুলের সভাপতি শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক রাম চন্দ্র দাসের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ছাড় পত্র না পাওয়ায় ৪৬ জন ছাত্র-ছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং তাদের মনে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগে সূত্রে জানা যায়, ২য় থেকে ৪র্থ শ্রেণীর ৪৬ জন ছাত্র-ছাত্রী উন্নত শিক্ষার জন্য অত্র স্কুলের পরিচালক মুকুল চন্দ্র রায়ের কাছে ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য আবেদন করেন। কিন্তু পরিচালক মুকুল চন্দ্র রায় তাদের উক্ত আবেদন পত্র অগ্রাহ্য করে ছাড়পত্র দিতে অপারগতা স্বীকার করেন এবং বিভিন্ন কৌশলে ঘুড়াতে থাকেন। ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের মনে  ক্ষোভের সৃস্টি হয়। একটা সময়ে শেষে উক্ত ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকগণ অত্র স্কুলের সভাপতি শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক রাম চন্দ্র দাসের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রীর অভিভাবক তাদের সন্তানদের ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু দুপুর গড়িয়ে গেলেও উক্ত স্কুলের পরিচালককে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে ছাড়পত্র নিতে আসা ইশা আলম নামে এক ছাত্রীর অভিভাবক মোঃ শাহ আলম শিকদার বলেন, আমার মেয়ে ইশা আলম এই স্কুলের ৪র্থ শ্রেণীর একজন ছাত্রী। তাকে ভালো একটি স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য ছাড়পত্র নিতে এসেছিলাম। কিন্তু মুকুল মাস্টার ছাড়পত্র দিচ্ছে না। আমাকে আজ না কাল করে দীর্ঘদিন যাবৎ ঘুড়াচ্ছে।
আরেক অভিভাবক ইসমাইল হোসেন বলেন, আমার ছেলে মেবিন অত্র স্কুলের ২য় শ্রেণীর একজন ছাত্র। তার লেখাপড়ার মান যাতে ভালো হয় সেজন্য ঢাকার একটা ভালো স্কুলে ভর্তি করবো। সেই উদ্দেশ্যে এখানে এসেছি। কিন্তু মুকুল মাস্টার আমার ছেলের ছাড় পত্র দিচ্ছে না। তিনি কোন আইনের বলে আমার ছেলের ছাড়পত্র আটকিয়ে রাখছেন, আমি তা জানি না। প্রয়োজন হলে ডি.সি সাহেবের কাছে যাবো। দেখি মুকুল মাস্টার কি করে আমার ছেলের ছাড়পত্র আটকিয়ে রাখেন।
ছাড়পত্র নিতে আসা আরেক অভিভাবক সোহেল মৃধা বলেন, আমার মেয়ে তাছফিয়া ছোয়া এ স্কুলের ৪র্থ শ্রেণীতে পড়ে। একজন বাবা হিসেবে তার ভবিষ্যৎ তৈরী করে দেয়ার দায়িত্ব আমার। তাই ওর লেখাপড়ার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ভালো একটা স্কুলে ভর্তি করতে চাই।
এখন যদি মুকুল মাস্টার ওর ছাড়পত্র না দেয় তাহলে তো ওকে ভালো স্কুলে ভর্তি করতে পারবো না। ওর ভবিষ্যৎ তো অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
এ ব্যাপারে পরিচালক মুকুল চন্দ্র রায়ের সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, অত্র স্কুলের সভাপতি হচ্ছেন ডি.সি সাহেব। তার নির্দেশক্রমেই ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ছাড়পত্র দেয়া বন্ধ রেখেছি। তিনি যদি নির্দেশ দেন, তাহলে যারা ছাড়পত্র চান তাদের সকলকেই ছাড়পত্র দিয়ে দেব।
এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক রাম চন্দ্র দাস বলেন, যে সকল ছাত্রের অভিভাবকগণ আমার কাছে আবেদন করেছেন, আমি তাদের সকলের ছাড়পত্র দিয়ে দেয়ার কথা বলেছি।

অপরাধ সংবাদ/রা