শরীয়তপুরে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষণ

শেখ জাভেদ, শরীয়তপুর প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২৮, ২০১৬
শরীয়তপুরে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষণ

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার দারুল আমান ইউনিয়নের রামরায়ের কান্দী গ্রামের গরিব রিক্সা চালকের মেয়ে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ধর্ষক পলাতক রয়েছে কিন্তু ধর্ষকের আত্বীয় স্বজন প্রভাবশালী হওয়ায় ভিকটিমের পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে হুমকী দিচ্ছে। ধর্ষনের ১০দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত ভিকটিমকে চিকিৎসা করতে দেয়া হয়নি, বলে অভিযোগ পরিবারটির।

মামলার এজাহার, স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের মৃত বিশাই খাঁ’র ছেলে আলহাজ্ব খাঁ (৪৫) হাতে রামরায়পুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষনের শিকার হয়েছে।

গত মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারী সকাল ৯টার দিকে তার ছোট ভাই হাবিব (৫) কে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে আসার সময় জোর পূর্বক ধর্ষন করা হয়। বিভিন্ন সময়ে কূ-প্রস্তাপ দেয়ে মেয়েটিকে রাজি না করতে পেরে সুযোগ বুঝে একা পেয়ে তাকে ফুঁসলিয়ে আসামীর বাড়ির উত্তর ভিটির ঘরের পিছনে ধৈঞ্চা পালার আড়ালে কোলে তুলে নিয়ে যায়।

এসময় মেয়েটি চিৎকার করলে তার মুখ বেঁধে ফেলে। পরে তার শরীলের সেলোয়ার কামিজ খলে উলঙ্গো করে জোর পূর্বক ধর্ষন করে। এরপর ধর্ষিতাকে হুমকী দিয়ে বলে, এই ঘটনা যেন কেউ না জানে আর জানলে তোকে ও তোর ছোট ভাইকে মেরে ফেলবো। এরপর ধর্ষিতা মেয়েটি বাড়িতে এসে দাদির নিকট উক্ত বিষয়টি জানালে তার দাদি তার মা, বাবাকে জানায়। ভিকটিমের বাবা একজন রিক্সা চালক ও মা বাসা বাড়িতে কাজ করে সংসার চালায়।

ঘটনার পরথেকে আসামী পলাতক রয়েছে কিন্তু ধর্ষকের আত্বীয় স্বজন প্রভাবশালী হওয়ায় ভিকটিমের পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে হুমকী দিচ্ছে। ধর্ষনের ১০দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত ভিকটিমকে চিকিৎসা করতে দেয়া হয়নি। এ ঘটনায় ডামুড্যা থানায় মামলা না নিলে গত বুধবার ২৭ জানুয়ারী১৬  শরীয়তপুর বিজ্ঞ নারীও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধন ২০০৩) এর ৯ (১) ধারায় একটি মামলা করা হয়েছে।

ভিকটিমের মা বলেন, লম্পট চরিত্রহীন আলহাজ্ব খাঁ (৪৫) আমার মেয়ে কে বিভিন্ন সময়ে কূ-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। কূ-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আমার মেয়েকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষনের পরে আমাদের কে বিভিন্ন ভাবে মামলা না করার জন্য হুমকী দেয়। তাই মামলা করতে দেরি হয়েছে কিন্তু এখনও পর্যন্ত আমার মেয়েকে হাসপাতালে নিতে দেয়নি। এই ঘটনার জন্য আমি দৃষ্টন্ত মূলক বিচার চাই।

ভিকটিমের দাদী বলেন, আমার নাতনী বাড়িতে এলে দেখি তার মুখে খামছির দাগ ও রক্ত দেখতে পায়। পরে আমাকে বিষয়টি জানালে আমি দ্রুত আমার ছেলেকে খবর দেই। এখন আমাদের কে হুমকী ধামকী দিচ্ছে। আমরা এর বিচার চাই।