শরীয়তপুরে প্রেমিক যুগলকে নির্যাতনের পর আবারো মাদ্রাসা ছাত্রীকে পিটিয়ে আহত

শরীয়তপুর প্রতিনিধি: | বুধবার, মার্চ ২, ২০১৬
শরীয়তপুরে প্রেমিক যুগলকে নির্যাতনের পর আবারো মাদ্রাসা ছাত্রীকে পিটিয়ে আহত
শরীযতপুরে প্রেমিক যুগলকে নির্যাতনের পর এবার এক মাদ্রাসার ছাত্রীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দেড়টার দিকে সদর উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর দাখিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ছাত্রী মোছাঃ তাছলিমা আক্তার (১৫) মাহমুদপুর গ্রামের শাহ আলম খানের মেয়ে ও মাহমুদপুর দাখিল মাদ্রাসার ১০ম শ্রেণী ছাত্রী। বর্তমানে আহত ছাত্রী শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার ৩য় ক্লাস চলাকালীন সময়ে দশম শ্রোণীর ছাত্রী মোছাঃ তাছলিমা আক্তার (১৫) আরবি ক্লাসে পড়ার সময় ভূল বলে। এসময় মাদ্রাসার সুপার আনোয়ার হক তাকে বেত্রাঘাত করেন। মোছাঃ তাছলিমা আক্তার জ্ঞান হারিয়ে ফেললে সহপাঠীরা পরিবারকে খবর দেয়। তাৎক্ষনিক তার পরিবার শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এবিষয়ে এখনো কোন মামলা হয়নি।

উল্লেখ্য, গত বছরে এই মাদ্রাসা সুপার আনোয়ার হক মাহমুদপুর দাখিল মাদ্রাসায় আরো এক ছাত্রীকে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করেছিল। সে সময় তার উপযুক্ত শাস্তি না হওয়ায় আবারও আরেক ছাত্রী তাছলিমাকে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করেছে।  

আহত মোছাঃ তাছলিমা আক্তার জানায়, আমি ক্লাসে পড়া ভূল বলায় মাদ্রাসা সুপার আনোয়ার হক আমাকে বেধরক পেটায়। পরে আমি আর কিছু বলতে পারিনা দেখি হাসপাতালে ভর্তি।

আহতের পিতা শাহ আলম খান বলেন, আমি শুনতে পেয়ে আমার মেয়ের কাছে আসি। এর আগেও এই সুপার হাচান বেপারীর মেয়েকে পিটিয়ে আহত করেছিল। আমি এর বিচার চাই।

ইউপি মেম্বার ও মাদ্রাসা কমিটির সদস্য আঃ মান্নান শিকদার বলেন, আমি শুনেছি। আমি একটু দূরে থাকায় ঘটনাস্থলে আসতে পারিনি। আহতের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছি। উনি এর আগেও আরেক ছাত্রীকে পিটাইছিল।

এবিষয়ে মাহমুদপুর দাখিল মাদ্রাসায় সুপার আনোয়ার হকের সাথে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এব্যাপারে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর বহমান বলেন, আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে মাত্র শুনলাম। এখনো কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ করেনি। আমি এখন ঘটনাস্থলে যাবো।