চিতলমারীতে চার স্কুলছাত্রীর বিষপান অভিযোগের তীর প্রধান শিক্ষকের দিকে

চিতলমারী প্রতিনিধি, | শনিবার, মার্চ ৫, ২০১৬
চিতলমারীতে চার স্কুলছাত্রীর বিষপান
অভিযোগের তীর প্রধান শিক্ষকের দিকে
 জেলার চিতলমারীতে এক সঙ্গে চার স্কুলছাত্রীর বিষপানের ঘটনায় ‘প্ররোচনা’র অভিযোগ উঠছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ‘অবিবেচকের’ মতো অভিযুক্ত ছেলেদের কিছু না বলে ভুক্তভোগী মেয়েদের রাগারাগি করেছিলেন তিনি। বিভিন্ন সূত্রে এমনই তথ্য জানা যাচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার এক সঙ্গে বিষপান করে ওই চার ছাত্রী। চারজনই চিতলমারী সদর ইউনিয়নের রায়গ্রাম নবপল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

স্কুলের একাধিক শিক্ষকের সঙ্গ কথা বলে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই চার ছাত্রীর অজান্তে সহপাঠী বখাটে ছেলেরা কোমল পানীয়র সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ায়। এতে তারা স্কুলে বসে বমি করলে শিক্ষকরা নড়েচড়ে বসেন। ঘটনার পরপর প্রধান শিক্ষক চার ছাত্রীকে ডেকে ধমকান। সেই সঙ্গে তাদের অভিভাবক নিয়ে স্কুলে হাজির হতে বলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্কুলটির এক শিক্ষক জানান, তিনি প্রধান শিক্ষককে বলেছিলেন ‘শুধু ছেলেগুলোর অভিভাবককে ডাকতে। কিন্তু তিনি তা না করে স্কুলে বসেই মেয়েদের ঝাড়েন।’

বিকেলে বাড়ি ফিরে কাউকে কিছু না জানিয়ে অভিভাবকদের ভয়ে নিরুপায় হয়ে আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয় মেয়েরা। কিন্তু ভাগ্যক্রমে চারজনই বেঁচে গেছে।

এই ঘটনায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মফিজুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহাগ ঘোষ ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুর রহমান। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ফরিদ হোসেনের দপ্তরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি গঠন করার বিষয় এখনো কিছু জানেন না কমিটির সদস্যরা।

জানতে চাইলে ফরিদ হোসেন বলেন, ‘আমি চিঠি ইস্যু করে দিয়েছি। শুক্র-শনি সরকারি ছুটি থাকায় তদন্ত কমিটির সদস্যরা এখনো চিঠি পাননি। আগামী মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যে তারা প্রতিবেদন জামা দিবেন।’

‘প্রাথমিকভাবে আমার মনে হয়েছে প্রধান শিক্ষকের কথায় চার শিক্ষার্থী ভয় পেয়েছিল। তিনি ছেলেগুলোকে ডাকতে পারতেন।’ বলেন ফরিদ হোসেন।

গ্রামটির বেশ কয়েকজন লোকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আগেও উঠেছে। বরাবরই তিনি অপেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে আসছেন।

‘স্কুলটি সম্পর্কে বিভিন্ন অভিযোগের কথা শুনছি। কিন্তু কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ না করলে আমাদের কিছু করার থাকে না।’ বলেন ফরিদ হোসেন।

এ বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিবপদ মজুমদারের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে কল করা হলে প্রথমবার রিসিভ করেননি তিনি। পুনরায় চেষ্টা করলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছেলেদের এমন বেপরোয়া আচরণের কথা প্রধান শিক্ষক তাদের জানাননি। এমনকি অভিভাবকদের ডাকার বিষয়েও তারা কিছু জানেন না। সব সিদ্ধান্ত প্রধান শিক্ষক একাই নিয়েছেন।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মানব হালদার বলেন, বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে সামলানো উচিত ছিল। দপ্তরিকে দিয়ে অভিভাবকদের বিষয়টি জানানো যেত।

এই ঘটনা স্কুলের অন্য শিক্ষার্থীদের উপর মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।