ইবিতে মাথায় কাফনের কাপর বেধে চাকরির দাবীতে ছাত্রলীগের আন্দোলন : ৩ ঘন্টা অবরুদ্ধ ভিসি

আশরাফুল ইসলাম, কুষ্টিয়া | মঙ্গলবার, মার্চ ৮, ২০১৬
ইবিতে মাথায় কাফনের কাপর বেধে চাকরির দাবীতে ছাত্রলীগের আন্দোলন : ৩ ঘন্টা অবরুদ্ধ ভিসি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) চাকরি প্রত্যাশীরা ভিসিকে অবরোধ করে মাথায় কাফনের কাপর বেঁেধ চাকরির দাভেিত আন্দোলন করছে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা কর্মঅরা। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত ভিসিকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখে চাকরির দাবীতে ভিসি অফিসের দরজায় অবস্থান ধর্মঘট পালন করে চাকরি প্রত্যাশী ছাত্রলীগের সাবেক নেতা কর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, চাকরি প্রত্যাশী সাবেক ছাত্রলীগের নেতা  আশিকুর রহমান জাপান, তৌহিদুর রহমান হিটলার, মিজানুর রহমান টিটু, কাশেম, শিমুল, আরব আলী, ইলিয়াস জোয়দ্দার ও মাহমুদ হাসান লেলিনসহ ২০/২০জন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের চাকরির জন্য দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসন ভবনের ভিসি অফিসসহ সকল অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মাচারীদের জোড় পূর্বক বের করে দেয়।

কর্মকর্তারা চলে গেলে ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকারকে তার কার্যালয়ে আবদ্ধ করে রেখে দরজায় মাথায় কাফনের কাপর বেঁধে মাইক নিয়ে বসে পরে। তাদের চাকরির প্রতিশ্রুতি  ও সিন্ডিকেট না দেয়া পর্যন্ত ভিসিকে বের হতে দিবে না বলে জানায় তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানায়, ‘একের পর এক ভিসি অবরুদ্ধ হতে থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের মাঝে দ্বন্দ থাকায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পরছেনা।  প্রশাসনের এক পক্ষ ভিসির বিরুদ্ধে এই সকল আন্দোলনের ফুয়েল জোগিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে প্রশাসনের ক্ষমতা থাকলেও তা প্রয়োগ করতে পারছে না প্রক্টর ও প্রশাসন। এভাবে বিশ্ববিদ্যালয় চলতে দেয়া যায় না।’
মিজানুর রহমান টিটু নামের এক চাকরি প্রত্যাশী তাদের মাইকে বক্তব্যদান বলেন আমাদের চাকরির জন্য বড় বড় নেতারা সুপারিশ করছে অথচ এই ভিসি ও প্রশাসন আমাদের চাকরি দিচ্ছে না। এবার আমাদের চাকরি না দেয়া পর্যন্ত ছাড়বো না।”
একের পর এক ভিসি অবরুদ্ধ হওয়ার পরে বিশ্ববিদ্যালয় আইন শৃঙ্খলার প্রধান প্রক্টরের ভুমিকার ব্যাপারে কথা বললে প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান জানায়- প্রশাসনের একটি পক্ষ তাদের সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে। এখানে আমি কি করবো। আমি ব্যবস্থা নিলে সেটাও আমার দোষ হয়ে যাবে। তারপরেও ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি।”
ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকারের সাথে কথা বললে তিনি জানান- “বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের অবস্থাটা যা দাড়িয়েছে এখানে আমি একা কি করতে পারি। তারপরেও আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি আমারা জায়গা থেকে। ”
উল্লেখ্য, চাকরি প্রত্যাশীরা গত ৬ ফেব্রুয়ারী ৪ ঘন্টা ভিসিকে অবরুদ্ধ, ২০ ফেব্রুয়ারী ভিসি অফিস সহ সকল অফিসে তালা, পরিবহন ধর্মঘট ও  গত ২ মার্চ প্রায় ৭ ঘন্টা কর্মকর্তাদের দ্বারা অবরুদ্ধ থাকে ভিসি।