দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে লঞ্চ ডুবি ৪২লাশ উদ্ধার ॥ নিখোজ দেড়শতাধিক

মোঃ মাহ্ফুজুর রহমান, রাজবাড়ী | রবিবার, ফেব্রুয়ারী ২২, ২০১৫
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে লঞ্চ  ডুবি ৪২লাশ উদ্ধার ॥ নিখোজ দেড়শতাধিক
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে গত শনিবার সকাল পনে ১১টার দিকে এম.ভি মোস্তফা নামে একটি ল প্রায় ২ শতাধিক যাত্রী নিয়ে মাঝ নদীতে ডুবে যায়। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সরজমিনে গিয়ে ৪২টি লাশের সন্ধান পাওয়া যায়। এর মধ্যে ১৭জন পুরুষ, ১০জন নারী ও ৬টি শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদের সদস্যরা। এখন জানা যায়নি পরবর্তি লাশের লিঙ্গ ভেদাভেদ। ঘটনা স্থলে গিয়ে জানা গেছে, ৩ পরিবহনের প্রায় ২শতাধিক যাত্রী নিয়ে পাটুরিয়া ল ঘাট এলাকা থেকে দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে এম.ভি ল টি। প্রায় মাঝ নদীতে আসার পর তেলবাহী একটি ট্যাংকের সাথে ধাক্কা খেয়ে পদ্মার পানিতে ডুবে যায়। আরো জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটার পর মুহুর্তে বেলা ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা লাশ উদ্ধারের কাজ চালায়। পরবর্তিতে ঢাকার হেড কুয়াটার থেকে আসা ষ্টেশন অফিসার তারেক জানান, এশিয়ার মধ্যে অন্যতম ডুবুরি খায়ের, মাসুদ ও ফজলু সহ ২টি টিমের ১৭ জন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা লাশ উদ্ধারের চেষ্টায় সন্ধ্যা ৭টার পর্যন্ত ৪২টি লাশ উদ্ধার করে। উদ্ধার কারী লাশের কোনো সঠিক পরিচয় না মিললেও দৌলতদিয়া ৩নং ফেরী ঘাটে একজন স্বজনের আহাজারী চোখে পড়ার মতো। একজন সাংবাদিকের ক্যামেরায় প্রিয় জনের ছবি দেখে শনাক্ত করেন লাশটি তার নিকটতম আত্মীয় এনামুলের লাশ। বোয়ালমারি থানার ধর্মহাটি গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলের শালা। আবুল হোসেন জানান, তার পরিবারের এনামুল, শারমিন, রুনা, সেলিনা পারভীন সহ একই পরিবারের ৬জন সদস্য ছিল। উদ্ধার কৃত লাশের মধ্যে ছেলের শালা এনামুলের লাশের ছবি দেখে শনাক্ত করতে পারলেও বাকী কারো সন্ধান জানতে পারেন নি। রাজবাড়ী জেলার সিভিল সার্জেন ডাঃ মোঃ মাহবুবুল হক জানান, গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩নং ফেরী ঘাট এলাকায় গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর ২টি ডাক্তারী টিম উপস্থিত রয়েছে। পদ্মার নদীতে ল ডুবির উদ্ধারকৃত রোগীদের কোনো ধরনের চিকিৎসা সেবার জন্য আমাদের টিম সর্বদা চেষ্টা চালাবে। উদ্ধারকারী জাহাজ থেকে রাজবাড়ী জেলার ব্র্যাক কর্মকর্তা নেফাজ উদ্দিন জানান, ৩জন ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া অডিটে যাওয়ার সময় এই ল ডুবিতে ২জন বেচে গেলেও অডিট অফিসার মোস্তাফা মেহেবুর এখন সন্ধান পাওয়া যায়নি।