প্রকাশ্য নৌকা প্রতিকে সীল মারার অভিযোগ ॥৩টি ইউনিয়নে গোলাগুলি,সংঘর্ষে আহত শতাধিক,গ্রেফতার-৪,এক বছর করে সাজা

ভোলা প্রতিনিধিঃ | মঙ্গলবার, মার্চ ২২, ২০১৬
প্রকাশ্য নৌকা প্রতিকে সীল মারার অভিযোগ ॥৩টি ইউনিয়নে গোলাগুলি,সংঘর্ষে আহত শতাধিক,গ্রেফতার-৪,এক বছর করে সাজা

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত প্রথম দফায় ভোলার ৪২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টি ইউনিয়নে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে মামলার কারনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় ৩৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রত্যেকটি ইউনিয়নেই ব্যাপক জাল ভোট,সংঘর্ষ,কেন্দ্র দখল,বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে কেন্দ্র দখল করে সীল মারে আ’লীগ কর্মীরা। প্রিজাইডিং,পুলিং অফিসার ও পুলিশের সহায়তায় কেন্দ্রগুলো দখল করে আ’লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্য সীল মেরে বাক্স ভর্তি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন ইউনিয়নে পৃথক পৃথক সংঘর্ষে প্রায় শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। ভোলার ধনিয়া, পশ্চিম ইলিশা ও চরফ্যাশনের চরমাদ্রাজের ৩নং ওয়ার্ড একটি কেন্দ্রে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। চরমাদ্রাজের কেরামতগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের পার্শ্বে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিবলী নোমানকে হুমকীর কারনে ৪ যুবককে আটক করে এক বছর করে কারাদন্ড দিয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শী,এলাকা সূত্র ও বিভিন্ন ইউনিয়নের কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৮টায় ভোট গ্রহন শুরু হওয়ার সাথে সাথেই চরফ্যাশন সদর থেকে বহিরাগতরা গিয়ে চরফ্যাশনের ৭টি ইউনিয়নের সবগুলো কেন্দ্র থেকে একে একে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যানপ্রার্থীদের এজেন্টদের দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বের করে দেয়। শুরু হয় প্রকাশ্য সীল মারার মহোৎসব। একই অবস্থা ভোলা,বোরহান উদ্দিন,দৌলতখান,লালমোহন,তজুমদ্দিন ও মনপুরার চিত্র। ৩৬টি ইউনিয়নের মধ্যে তজুমদ্দিনের চাচড়া ইউনিয়নের আ’লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী রিয়াজ হোসেন হান্নান(আনারস)ছাড়া বাকী ৩৫টি ইউনিয়নেই নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা কেন্দ্রগুলো দখলে নিয়ে প্রকাশ্য সীল মারে।এসময় কেন্দ্রগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত ভোট গ্রহন কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা কোন প্রতিবাদ বা বাধা দিতে দেখা যায় নি। বোরহান উদ্দিন উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহন শুরু হয়ে শান্তিপূর্ণ ভাবে চললেও সকাল সাড়ে ১০টায় প্রতিদ্বন্দ্বী দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় দু’গ্রুপের ১০কর্মী আহত হয়।সংঘর্ষের কারনে এ ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহন সাময়িক বন্ধ রাখে প্রিজাইডিং অফিসার। একঘন্টা পর আবার এ ওয়ার্ডে নির্বাচন যথারীতি শুরু হয়েছে। বোরহান উদ্দিনের সাচড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ১১টায় প্রতিদ্বন্দ্বী দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৬জন আহত হয়েছে।সংঘর্ষের কারনে এই ওয়ার্ডেও ভোট গ্রহন বন্ধ রেখে এক ঘন্টা পর আবার ভোট গ্রহন শুরু করে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বোরহান উদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করে।সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহন সাময়িক বন্ধ থাকলেও এক ঘন্টা পর আবার ভোট গ্রহন শুরু হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কল্লোল বিশ্বাস জানান।এছাড়া চরফ্যাশনের চরমাদ্রাজ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড কেন্দ্রে  ইউপি সদস্য প্রার্থী হানিফ সিকদার(ফুটবল) ও খোকনের(মোরগ)সমর্থকদের মধ্যে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে দু’গ্রুপের কমপক্ষে ১০কর্মী আহত হয়েছে।এওয়াজপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য প্রার্থী আঃ রহিম(তালা) ও ছালাহ উদ্দিনের(ফুটবল)সমর্থকদের মধ্যে বেলা দেড়টায় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে দু’গ্রুপের ৫জন আহত হয়েছে।আহতদের চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চরফ্যাশনের ঢালচর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড কেন্দ্রে হাজী সাইফুল ইসলাম(মোরগ) ও হারুন পিটারের(ফুটবল) সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় উভয় গ্রুপের ৫ কর্মী আহত হয়েছে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে টেম্পু যোগে দক্ষিন আইচা হাসপাতালে ভর্তির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসছে বলে জানা গেছে।চরফ্যাশনের চরমাদ্রাজের ৩নং ওয়ার্ডের হিন্দু পল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করতে লাঠিচার্জ করে ও ২রাউন্ড শর্ট গানের গুলি ছোড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।চরফ্যাশনের কেরামতগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা প্রতিকের পক্ষে কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করে অস্ত্র প্রদর্শন করে বহিরাগত যুবকরা।সংবাদ পেয়ে চরফ্যাশনের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিবলী নোমান ওই কেন্দ্রে পরিদর্শনে গেলে বহিরাগত যুবকরা ম্যাজিস্ট্রেট শিবলী নোমানের সামনে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে।এসময় তিনি পুলিশের সহায়তায় পৌর ১নং ওয়ার্ডের তপন চন্দ্র হাওলাদারের ছেলে সাগর চন্দ্র হাওলাদার(১৮),পৌর ১নং ওয়ার্ডের হারুনের ছেলে আঃ হান্নান(১৯),পৌর ৪নং ওয়ার্ডের চিত্ত দত্তের ছেলে আবিধ দত্ত(১৮) ও ওসমানগঞ্জ ৭নং ওয়ার্ডের মৃত মফিজুল ইসলামের ছেলে ইমাম হোসেনকে(১৮) আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেককে এক বছর করে সাজা দেয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তারা চরফ্যাশন থানা হাজতে রয়েছে বলে চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ ম,এনামুল হক জানান।