কুড়িগ্রামের ধর্মান্তরিত মুক্তিযোদ্ধা হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পিবিআই- রংপুর

স্টাফ রিফোর্টার | বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৪, ২০১৬
কুড়িগ্রামের ধর্মান্তরিত মুক্তিযোদ্ধা হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পিবিআই- রংপুর
কুড়িগ্রামের ধর্মান্তরিত মুক্তিযোদ্ধা  হোসেন আলী (৬৮) হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পিবিআই- রংপুর | গতকাল বুধবার দুপুরে জেলা শহরের গাড়িয়ালপাড়া এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদসহ  নিহত ধর্মান্তরিত মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলীর বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের  সাথে কথা বলে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছে তদন্তকারী দল|

পিবিআই, রংপুর সুত্রে জানা যায় ,কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ পিবিআই রংপুর বিভাগের পুলিশ সুপার  মো: হুমায়ূন কবিরের কাছে হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে তদন্তের সহযোগিতা চাইলে বিষয়টি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে নিয়ে একটি তদন্ত দল পাঠায় পিবিআই রংপুর|

তদন্ত দলের নেতৃত্ব দেন পুলিশ পরিদর্শক মোঃ মোখলেছুর রহমান এবং সঙ্গীয় অফিসার হিসেবে তদন্ত কাজে সহযোগিতা করেন  উপ পুলিশ পরিদর্শক সালেহ ইমরান।

পিবিআই ,রংপুর জেলা পুলিশ কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আব্দুস সালাম (রিমন) জানান , মুলত প্রযুক্তিগত বিভিন্ন দিক মাথায় নিয়ে  আমরা তদন্ত কাজে সহযোগিতা করার চেষ্টা করব| ইতোমধ্যে পিবিআই তদন্তকারী দল বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পেয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে তদন্তের স্বার্থে এর বেশী কিছু বলেন নি তিনি।

 ঘটনা সুত্রে জানা যায় ,কুড়িগ্রাম পৌরসভার গাড়িয়াল পাড়ায় মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে নিহত মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলীর (৬৮) বাড়ি থেকে অল্প একটু দুরে কুপিয়ে ও  জবাই করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা |

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী মোগলবাসা ইউনিয়নের চর সিতাই ঝাড়ের মৃত. ছেপাত উল্লাহ ছেলে। তিনি পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক হিসেবে গত বছর অবসরে যান। চাকরির সুবাদে তিনি ২০ বছর আগে এই এলাকায় বাড়ি করেন। এর মধ্যে ১০ বছর আগে তিনি মুসলিম ধর্ম থেকে খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

পরিবার সুত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বাড়ির সামনে আশরাফিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন পাকা রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করছিলেন তিন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে ৩ জন আরোহী আসে।

 এদের মধ্যে ২ জন আকস্মিকভাবে নেমে আল্লাহু আকবার বলে পথচারী মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলীকে কোপ মারলে তিনি পড়ে যান। পরে তাকে জবাই করে। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে লোকজন ছুটে আসলে দুর্বৃত্তরা সেখানে ২টি ককটেল ফাটিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে কলেজ পাড়ার তালতলায় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম সাকিবের বাড়ির গেটের সামনে আরও একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্ঠা করলে লোকজনের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যায়।

উল্লেখ্য এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহ ৮ জনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুত্রে জানা গেছে।