মঠবাড়িয়ায় সহিংস ঘটনার তদন্ত শুরু, এলাকায় গ্রেফতার আতঙ্ক

(পিরোজপুর) : | শুক্রবার, মার্চ ২৫, ২০১৬

মঠবাড়িয়ায় সহিংস ঘটনার তদন্ত শুরু, এলাকায় গ্রেফতার আতঙ্ক

 পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ধানিসাফা ডিগ্রী কলেজ ভোট কেন্দ্রে হামলা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে ৫ ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনা তদন্তে তিনটি কমিটি কাজ শুরু করেছে।
তদন্তের অন্যতম কৌশল হিসাবে হামলার নেতৃত্ব দানকারী ও উস্কানীদাতাদের মোবাইল কল লিষ্ট চেক করে ঘটনার দিন ও নির্বাচনের পূর্বাপর সময়ের কথোপকথনসহ তাদের সকল তৎপরতা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।
এদিকে সরকারি কাজে বাধা, ভাঙচুর, ব্যালট ছিনতাই ও কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেটের উপর হামলার অভিযোগে অজ্ঞাতনামা ১৩শ ব্যক্তিকে আসামি করে মঠবাড়িয়া থানায় মামলা হয়েছে।
নির্বাচনের দিন ওই কেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনকারী বান্দরবান পার্বত্য জেলায় কর্মরত পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর মো. সানোয়ার আলী খান বাদি হয়ে মামলাটি করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মঠবাড়িয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নাসিরউদ্দিনকে।
মামলায় নাম উল্লেখ করে কাউকে আসামি করা হলো না কেন- এ প্রশ্নের জবাবে ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাদী অন্য জেলার পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায় তিনি আসামিদের চেনেন না বলে এজাহারে নাম উল্লেখ করতে পারেননি। তবে তদন্তে আসামিদের নাম বেরিয়ে আসবে।’
এজাহারে কোন আসামীর নাম উল্লেখ না থাকলেও ধানীসাফা গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় জনসাধারণের মধ্যে বিরাজ করছে গ্রেফতার আতঙ্ক। অনেকেই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। এছাড়া ধানিসাফা ইউনিয়নের সাফা বাজার ও অন্যান্য হাটের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এলাকায় চলছে অঘোষিত ‘সান্ধ্য আইন’।
ওই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ফুলঝুড়ি গ্রামের নজরুল ইসলাম, ৯ নং ওয়ার্ডের মো. মাসুম ও মজিবুর রহমানসহ এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে এলাকার বর্তমান অবস্থা। প্রত্যক্ষদর্শী ওই সময় মিছিলে অংশগ্রহনকারী অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী হারুন-অর রশিদ ও পার্শ্ববর্তী ভান্ডারিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম মিরাজ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ভোট কেন্দ্রে হামলা ও ম্যাজিষ্ট্রেটসহ নির্বাচন কর্মকর্তাদের উপর আক্রমনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, ভান্ডারিয়ার হরিনপালা গ্রাম থেকে সহশ্রাধিক লোক দেশিয় অস্ত্র-সস্ত্রসহ এসে ধানীসাফা কলেজ কেন্দ্র ঘেরাও করে ও হামলা চালায়।
এদিকে বরিশাল রেঞ্জের পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আকরাম হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার থেকেই কাজ শুরু করেছে। পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মানিকহার রহমানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ও জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফের নেতৃত্বে তিন সদস্যের অপর কমিটিও ২৭ মার্চ থেকে তদন্ত কাজ শুরু করবে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক একটি তদন্ত কমিটির এক সদস্য বলেন, এই নির্বাচনী সহিংসতা ও হত্যাকান্ডের জন্য দায়ী সকল পক্ষের ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হবে। ইতোমধ্যে নেতৃত্বদানকারী প্রভাবশালী কয়েকজনের কথা জানা গেছে। ঘটনার বিবরণও প্রাথমিক ভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে।
তদন্তের অন্যতম কৌশল হিসাবে নেতৃত্ব প্রদানকারীদের মোবাইল কল লিষ্ট চেক করে ঘটনার দিন ও নির্বাচনের পূর্বাপর সময়ের কথোপকথনসহ তাদের সকল তৎপরতা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য নেয়া হবে। ভোট কেন্দ্রে হামলাকারী নেতারাসহ তাদের ক্যাডার বাহিনীর মোবাইল কললিষ্ট যেমন চেক করা হবে। তেমনি প্রিজাইডিং অফিসার ও প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থীগণের  কললিষ্ট ও চেক করা হবে।