খুলনায় প্রেমিককে হত্যা করে হৃৎপি- বের করে আনা প্রেমিকার ফাঁসি

অপরাধ সংবাদ ডেস্ক | সোমবার, মার্চ ২৮, ২০১৬


খুলনায় প্রেমিককে হত্যা করে হৃৎপি- বের করে আনা প্রেমিকার ফাঁসি
প্রেমিককে হত্যা করে বুক ফেড়ে হৃৎপি- বের করে আনা এক তরুণীকে মৃত্যুদ- দিয়েছে খুলনার একটি আদালত। দুই বছর আগের ওই ঘটনায় খুলনার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোসাম্মাৎ দিলরুবা সুলতানা গতকাল সোমবার এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় দ-িত ফাতেমা আক্তার সোনালী (২১) আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলার আরেক আসামি মেহেদী হাসান অনিককে খালাস দেওয়া হয়েছে বলে জানান আদালতের পিপি সাব্বির আহমেদ। মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৮ মার্চ নগরীর জোড়াগেট গণপূর্ত বিভাগের আবাসিক কলোনি থেকে খুলনায় কলেজ ছাত্র ইমদাদুল হক শিপনের গলাকাটা, বুক চেরা ও হৃৎপি- বের করা বীভৎস লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিপনের ভাই মো. বাবুল মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে সোনাডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেন। পিপি সাব্বির জানান, ১৫ মার্চ শিপনের প্রেমিকা ফাতেমা আকতার সোনালীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালতে হত্যার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন সোনালী। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মেহেদী হাসান অনিক নামের আরেকজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ, যাকে মামলার রায়ে খালাস দেওয়া হয়। ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোনাডাঙ্গা থানার এসআই শওকত হোসেন সোনালী ও মেহেদীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। মামলার তদন্তে হত্যার লোমহর্ষক কাহিনি উঠে আসে বলে পিপি জানান। মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার গণপূর্ত বিভাগের আবাসিক কলোনিতে মামা আবু বক্করের বাসায় থেকে নগরীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়ের মেডিকেল ইনস্টিটিটিউটের শেষ বর্ষে পড়তেন শিপন। পাশাপাশি তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লিফট অপারেটরের কাজও করতেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সোনালীর সঙ্গে শিপনের পরিচয় এবং প্রেমের সম্পর্ক হয়। এক পর্যায়ে সোনালী জানতে পারেন শিপন আরও ৪/৫ জন মেয়ের সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে আছেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ সোনালী শিপনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০১৪ সালের ৬ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত শিপনের মামা মাগুরায় গ্রামের বাড়ি বেড়াতে যান। ৮ মার্চ শিপনের বাসায় যান সোনালী। এর আগে সোনালী ২০টি ঘুমের বড়ি গুড়ো করে কোমল পানীয়ের ভেতরে মিশিয়ে নেন। বাড়িতে গিয়ে সোনালী শিপনকে ঘুমের ওষুধ মেশানো ওই কোমল পানীয় পান করান। এরপর অচেতন হয়ে পড়লে হাত-পা বেঁধে গলা কেটে শিপনকে হত্যা করেন। পরে শিপনের বুক চিরে হৃৎপি- বের করে দুই টুকরো করে লাশের পাশে ফেলে রেখে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন সেট নিয়ে পালিয়ে যান।