মাগো তুমি একে চলে গেলে,আমি আর কখনও মায়ের আদর পাব না!

মোঃ মাহফুজুর রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি | সোমবার, ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০১৫
মাগো তুমি একে চলে গেলে,আমি আর কখনও মায়ের আদর পাব না!
আমাকে জড়িয়ে ধরে আর কেউ আদর করবে না। আমি আর কখনও মায়ের আদর পাব না। নিজের হাতে মা আমার পছন্দের খাবার তৈরি করে খাওয়াতেন। এখন আর আমাকে কেউ আদর করে খাওয়াবে না। এম.ভি মোস্তফা-৩ লঞ্চ ডুবিতে নিহত রাজবাড়ী শেরে বাংলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা অসীমা দাস (৪০)-এর লাশ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারী) সকালে শেরে বাংলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আনা হলে মায়ের লাশের পাশে এমনি ভাবে বিলাপ করছিলেন রাজধানীর ফার্মগেট হলিক্রস কলেজের এইচ. এস.সি প্রথম বর্ষের ছাত্রী দুলা। নিহত শিক্ষিকা অসীমা দাসের স্বামী এ্যাড: সৎজিত কুমার দাসও লাশের পাশে বসে বিলাপ করে বলছিলেন অসীমা তুমি আমাকে এ কি দায়িত্ব দিয়ে গেলে। আমি কি তোমার দেওয়া দায়িত্ব পালন করতে পারবো। রাজবাড়ী শেরে বাংলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুলা’র মা অসীমা দাস ১৯৯৮সালের ২১নভেম্বর ওই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করেন। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে স্কুলে ক্লাস শেষ করে তিনি দুলাকে দেখার জন্য ঢাকায় যান। সেখান থেকে ফেরার পথে রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারী) দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে এমভি মোস্তফা-৩ লঞ্চ ডুবিতে নিহত হন তিনি। এদিকে সোমবার সকালে অসীমা দাসের লাশ শেরে বাংলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আনা হলে সহকর্মী, ছাত্র-ছাত্রী ও এলাকাবাসী এক নজর দেখার জন্য সেখানে ভিড় জমায়। এসময় আশে-পাশের বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। সৃষ্টি হয় এক হৃদয় বিধারক দৃশ্যের। সেখান থেকে সকাল ১১টায় তার লাশ নেয়া হয় রাজবাড়ী শহীদ খুশি রেলওয়ে ময়দানস্থ জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে শোকাবহ পরিবেশে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মো.রফিকুল ইসলাম খাঁন,অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ড.সৈয়দা নওশীন পূর্ণিনী, জেলা সিভিল সার্জন ড.মাহবুবুল হক, জেলা শিক্ষা অফিসার সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান,সদর উপজেলা পরিষদরে চেয়ারম্যান এ্যাড:এম.এ খালেক,বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ নিজাম মন্টুসহ শতাধিক মানুষ। দুলা বলেন, মা আমাকে ভাল কলেজে লেখাপড়া করানোর জন্য ঢাকায় একটি বাসা ভাড়া করেছে। ছোট বোন চৈতি রাজবাড়ী গালর্স স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে। মা মাঝে মধ্যে আমাকে দেখার জন্য ঢাকায় যেত। গতকালও মা আমাকে দেখার জন্য ঢাকায় গিয়েছিল। মা আমাদের দুই বোনকে বলতো তোরা আমার মেয়ে না, তোরা আমার ছেলে। আমার স্বপ্ন তোরা ভাল লেখাপড়া করে মানুষের মত হবি। তোরা আমার স্বপ্ন পূরণ করবি। আমার মায়ের স্বপ্ন পূরন হলো না। শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সকাল ১১টা ৫০মিনিটে শেষ কৃত্তের জন্য অসীমা দাসের লাশ নিয়ে যাওয়া হয় তার নিজ বাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামে। ছোট বোন চৈতি দোলা