নির্বাচনী সহিংসতায় পাইকগাছায় ৯মামলায় সহ¯্রাধিক আসামী

অপরাধ সংবাদ ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, মার্চ ৩১, ২০১৬
নির্বাচনী সহিংসতায় পাইকগাছায় ৯মামলায় সহ¯্রাধিক আসামী
: খুলনাার পাইকগাছায় নির্বাচনী সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৯মামলায় আসামী করা হয়েছে সহ¯্রাধিক। এ মামলাগুলো হয়েছে ২২মার্চ ইউপি নির্বাচনী পরবর্তী সময়। মামমা পাল্টা মামলার ঘটনাও ঘঠেছে।
মামলায় নির্বাচিত ৩ইউপি চেয়ারম্যানসহ সহ¯্রাধিক ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে। মামলায় পুলিশ এ পর্যন্ত ১০ব্যক্তিকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। পাল্টাপাল্টি মামলা ও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে সহিংসতার অভিযোগে এসব মামলা করা হয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। দু’একটি বিছিন্ন ঘটনা ছাড়ায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন হয়। গ্রেফতার আতঙ্কে অনেকেই এলাকা ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে অন্যত্র। আবার মামলা গুলোতে শত শত অজ্ঞাত আসামী করায় অজানা আশঙ্কায় ভুগছে এলাকার সাধারণ মানুষ।
উল্লেখ্য গত ২২মার্চ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন পূর্বে হরিঢালী ইউনিয়নের একটি এবং নির্বাচনের দিন দেলুটী ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে, সোলাদানা ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে এবং সন্ধ্যার পর চাঁদখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে। এছাড়া হরিঢালী নির্বাচন পূর্বরাতে ৫টি মটর সাইকেল অগ্নি সংযোগ ও ভাঙ্গচুর করে প্রতি পক্ষ প্রার্থীর সমর্থকরা। ওই সময় নির্বাচিত চেয়ারম্যান আবু জাফর সিদ্দিকী রাজুর লক্ষ করে গুলি ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দেলুটী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনায় রিটার্ণিং অফিসার এফএম সেলিম আখতার বাদী হয়ে প্রায় ৪শ লোককে অজ্ঞাত আসামী করে এবং সোলাদানার পূর্বদীঘা কেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রিটার্ণিং অফিসার বাদী হয়ে ৩শ অজ্ঞাত আসামী করে পৃথক ২টি মামলা করেন।
দক্ষিণ কাইনমুখী গ্রামের আসলাম গাজীর ছেলে শফিউর রহমান ও দীঘা গ্রামের রামপ্রসাদ সরদার বাদী হয়ে সোলাদানা ইউনিয়নের নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান এসএম এনামুল হককে আসামী পৃথক দুটি মামলা করেন। দক্ষিণ কাইনমুখী গ্রামের মৃত সুধীর রায়ের ছেলে অমলেন্দু রায় বাদী হয়ে একই এলাকার রেবতী মন্ডলের ছেলে বিজন মন্ডলকে প্রধান আসামী করে ১৭জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামী করে থানায় মামলা করে। যার নং-১৯।
হরিঢালী ইউনিয়নের নোয়াকাটী গ্রামের আইজুল সরদারের ছেলে জালাল সরদার বাদী হয়ে পুনরায় নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান আবু জাফর সিদ্দিকী রাজু সহ ২৫-৩০ জনকে আসামী করে থানায় মামলা করে। যার নং- ১৮। একই ইউনিয়নে মটরসাইকেলে অগ্নি সংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান আবু জাফর সিদ্দিকী রাজু বাদী হয়ে পাল্টা আরেকটি মামলা করেন। মামলায় আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী সরদার গোলাম মোস্তফা সহ ৪৪জনকে আসামী করা হয়। যার নং-১৭।
নির্বাচনের দিন সন্ধ্যার পর চাঁদখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অগ্নি সংযোগ করার অভিযোগে কালিদাশ পুর গ্রামের মৃত মাহাতাব সরদারের ছেলে আওয়ামী লীগনেতা আবু হায়দার সরদার বাদী হয়ে বিএনপি’র নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান জোয়াদুর রসুল বাবু সহ ২৫ জনের নাম উল্লেখ ও ৮০-৯০ জনকে আসামী করে মামলা করেন। যার নং-১৬।
রামনগর গ্রামের ফজর আলী বাদী হয়ে কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন ডাবলুর ভাই এ আজাদ হোসেনকে আসামী করে অনুরূপ আরেকটি মামলা করেন। এদিকে মামলায় এ পর্যন্ত পুলিশ কমপক্ষে ১০ব্যক্তিকে আটক করেছে এবং নোয়াকাটি গ্রামের জালাল সরদারের দায়ের করা মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান আবু জাফর সিদ্দিকী রাজু সহ অন্যান্য আসামী গত গত বুধবার আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন বলে জানাগেছে।