তালতলীতে এক মাসে ২০ বাল্য বিয়ে

অপরাধ সংবাদ ডেস্ক | সোমবার, এপ্রিল ৪, ২০১৬
তালতলীতে এক মাসে ২০ বাল্য বিয়ে
বরগুনার তালতলী উপজেলার সর্বত্রই বাল্য বিয়ের হিড়িক পড়েছে। প্রশাসনের অবগতি সত্ত্বেও উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে গত এক মাসে ২০ টি বাল্য বিয়ে হয়েছে। বাল্য বিয়ের সংবাদ প্রশাসনকে  দিলেও কোন পদক্ষেপ নেয়নি তারা। অজ্ঞাত কারনে নীরব রয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এর মধ্যে শারিকখালী ইউনিয়নে ২টি, কড়ইবাড়ীয়া ইউনিয়নে ২টি, পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নে ৯টি, ছোটবগী ইউনিয়নে ১টি, বড়বগী ইউনিয়নে ৪টি, নিশানবাড়ীয়া ইউনিয়নে ১টি ও সোনাকাটা ইউনিয়নে ১টি বাল্য বিয়ে হয়েছে। এর অধিকাংশ বিয়ে হয়েছে স্থানীয় ইউনিয়ন কাজীদের উপস্থিতিতেই। এ সকল বিয়ে হচ্ছে বেশীর ভাগ ৫ম থেকে ৮ম শ্রেণির ছাত্রীদের। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রেজিষ্টার অনুযায়ী এদের বয়স ১১ থেকে ১৪ বছর হলেও ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত জন্ম সনদে তাদের বয়স দেখানো হচ্ছে ১৮ থেকে ২০ বছর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাজীর ঘনিষ্টজন জানিয়েছে, প্রতি ইউনিয়ন কাজীদের দু’টি করে বিবাহ রেজিষ্টার বই রয়েছে। এর একটি রেজিষ্টার শুধু বাল্য বিয়ের জন্যই। কাজীদের এ অবৈধ রেজিষ্টারটি তারা কোন সমাজে দেখাননা। বাল্য বিয়ের ব্যাপারে কোন কাজীকে চাপ দিলে তারা এ বিয়ে পড়ানো সম্পূর্ন অস্বীকার করে। এমনকি প্রয়োজনে তাদের বিবাহ রেজিস্টারের  ১নং বৈধ বইটি এনে দেখান। অন্যদিকে অভিভাবকরা তাদের বাল্য পুত্র ও কন্যাদের বিয়ে পরান গ্রাম্য মসজিদে কিংবা কাজীদের এলাকার মসজিদে বসে। বিয়ের পনের দিন কিংবা এক মাস অতিবাহিত হওয়ার পর বাড়ীতে  আত্মীয়দের মধ্যে আনুষ্ঠানিকতা  হয়। এ সময় লোকজনের মধ্যে জানাজানি হলে অনেক আগে বিয়ে হওয়ার কথা বলে পার পেয়ে যায়। আবার এর অনেকটাই সুপারিশ করছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাই। এমনিভাবে নানা কৌশলে হিড়িক পড়ছে অবৈধ বাল্য বিয়ের। এভাবে সরকারের আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে অবাধে বাল্য বিয়ে হওয়াতে একদিকে যেমন স্কুল-মাদরাসা থেকে ঝড়ে পড়ছে শিক্ষার্থী অন্যদিকে বাল্য বিয়ের বহু কুফল পরিলক্ষিত হচ্ছে সর্বত্র। অপরিনত বয়সে বিয়ের কারনে সু-স্বাস্থ্য, উচ্চ শিক্ষা ও পরিপূর্ণ সংসার গঠন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক মেয়েরাই। ফলে সরকারের লক্ষ্য উদ্দ্যেশ্য ব্যহত হচ্ছে। দিন দিন ভেঙ্গে পড়ছে ওদের স্বাস্থ্য। বিয়ের পর স্বামীসহ শশুরালয়ের লোকজনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে না পাড়ায় সংসার ভাংছে অনেক মেয়েদেরই। উপজেলা কাজী সমিতির সভাপতি ও বড়বগী ইউনিয়ন কাজী মাওঃ ছাইদুর রহমান জানান, ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক অভিভাবকরা জন্ম সনদ নিয়ে আসলে বিবাহ পড়ানো ছাড়া তাদের আর কোন উপায় থাকেনা। জন্ম সনদ অরিজিনাল না ভুয়া এটা দেখার কোন ব্যবস্থা তাদের নেই। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইসরাইল হোসেন বলেন, বাল্য বিয়ের খবর পেয়ে পুলিশ পাঠালে তারা এসে ভিন্ন রকম রিপোর্ট দেয়। একার পক্ষে সকল অনিয়ম ও দূর্নীতি দুর করা সম্ভব নয়। সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীগন ন্যায় নিষ্ঠা ভাবে কাজ না করলে এ দেশ থেকে কোন ক্ষেত্রেই দুর্ণীতি দূর হবেনা।

অপরাধ সংবাদ/রা