শরীয়তপুরে স্বর্ণ চুরির অভিযোগে ছেলের বিরুদ্ধে মায়ের মামলা

মহসিন রেজা,শরীয়তপুর প্রতিনিধি | বুধবার, এপ্রিল ৬, ২০১৬
শরীয়তপুরে স্বর্ণ চুরির অভিযোগে ছেলের বিরুদ্ধে মায়ের মামলা
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর বকাউল কান্দি গ্রামে ছেলের বিরুদ্ধে মায়ের মামলা করে হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে। মামলায় দুই ছেলেকে স্বাক্ষী করে এক ছেলে ও নাতির বিরুদ্ধে স্বর্ণ অলংকার চুরির অভিযোগে মামলা করেছে মা ফতেমা বেগম। গত ০৫ মার্চ শনিবার এই নাটকীয় ঘটনাটির পরিপ্রেক্ষিতে ৮দিন পর ১৪মার্চ ১৬ শরীয়তপুর বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্টেট এর আমলী (গোসাইরহাট) আদালতে মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত আবুল বকাউল মামলা কাঁধে ও তার স্ত্রী এবং দুই শিশু সন্তান নিয়ে মনবাতার জীবন যাপন করছেন।

মামলার বিবরণে প্রকাশ, কোদালপুর গ্রামের নান্নু মিয়া বকাউলের স্ত্রী ও মামলার বাদী আসামীর মা মোসাঃ ফতেমা বেগম (৭০) গত ০৫ মার্চ শনিবার নিজের গলার স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এনে ছেলে আবুল বকাউল (৪৬) ও নাতী কামাল হোসেন শেখ (৪০) এর বিরুদ্ধে শরীয়তপুর বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এর আমলী গোসাইরহাট আদালতে ১৪৩, ৩২৩, ৩৭৯ ও ৫০৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ৫জনকে স্বাক্ষি করা হয়েছে।

নিজের মা কেন আপনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল বকাউল বলেন, ১৯৯৬ সালে মালায়শিয়া যাই। আমার মেয়ে শিমুলি তখন ৩ বছর বয়স। বিদেশে যাওয়ার ৬মাস পর নওরিন নামে আমার আরেকটি মেয়ে হয়। ২০০৩ সালে ছুটিতে বাংলাদেশে আসি। ৭ বছর বাহিরে ছিলাম। প্রতিমাসে ২০ হাজার টাকা করে মায়ের হাতে দিতাম। ৩ মাস বাংলাদেশে থেকে আবারও বাহিরে চলে যাই। সে সময় ৩ বছর থেকে ২০০৭ সালে আবার আসি। এর মধ্যে  প্রতিমাসে ৩০/৪০হাজার টাকা করে দিতাম। আমি এসে আমার বাবা নান্নু মিয়া বকাউল এর কাছে এতদিন যত টাকা দিছি তা জানতে চাইলে সে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। বলে তোর ভাই কাশেম ও ইসমাঈল এর কাছে টাকা আছে বলে আমাকে জানাই। তখন আমি ইসমাঈলের সাথে যোগাযোগ করলে জানতে পারি, সে ঢাকায় এক গার্মেন্টস কর্মী সাহারা বানু কে বিয়ে করেছে। তখন আমি তাদের কে বাড়িতে নিয়ে আসি। আবারোও বাহিরে চলে যাই। এই নিয়ে ১৮ বছর মালয়শিয়া থেকে ২০১১ সালে বাংলাদেশে চলে আসে। এরপর চলতে থাকে বাবা, মা, ভাইদের সাথে আমার  মনোমালীন্য। তখন আমাকে জমি রাখার কথা বলে আমার কাছ থেকে যেই টাকা গুলো নিয়েছিল। সেই টাকাও জমি হচ্ছে আমার প্রধান সমস্যা। ১৭শতাশং জমির জন্য টাকা দিছিলাম সে জমিগুলো বিদেশ থেকে এসে দেখি ভাইরা দলিল করে নিয়ে গেছে। এখন আমার দুই ভাইয়ের পরামর্শে আমার মা আমার বিরুদ্ধে একেরপর এক হায়রানি মূলক মামলা করছে। কেউ আমার এই সমস্যা মিমাংশা করতে পারে নাই। বর্তমানে আমার ছোট দুটি সন্তান নিয়ে মানবাতার জীবন যাপন করছি। আপনাদের মাধ্যমে এই হয়রানীর সুষ্ঠ বিচার চাই।

স্থানীয় নজু বকাউল, সেলিম বকাউল সহ প্রতিবেশিদের সাথে আলাপ কালে জানা যায়, আবুল বাকাউলের বিরুদ্ধে তার মা ও ভাইদের দায়ের করা মামলা দিয়ে দৃর্ঘ্যদিন ভুগছে। আমারা একাধিকবার মিমাংশার জন্য বসেও মিমাংশা করতে পারিনি। আবুল বকাউল মিমাংশা হতে চাইলেও তার ভাইরা মামাংশা হতে চায়না। বর্তমানে শুনেছি নতুন করে মিথ্যা মামলা করছে।

এ বিষয়ে মা ফাতেমা বেগম এর সাথে মামলা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি, এ বিষয়ে কোন কথা না বলে, তার ছেলেদের সাথে কথা বলার জন্য অনুরোধ করেন।
 
এ ব্যাপারে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) সুমন দেব বলেন, আমারা তদন্তের মাধ্যমে জেনেছি আবুল বকাউলের সাথে তার ভাইদের দ্বন্দ চলছে। একাধিকবার গোসাইরহাট থানায় মিমাংশার জন্য বসা হলেও তার মিমাংশা হয়না। তারা শুধু আবুল বকাউলের বিরুদ্ধে মামলা করে।

অপরাধ সংবাদ/রা