ভোলায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হত্যা: চার দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ

অপরাধ সংবাদ ডেস্ক | শুক্রবার, এপ্রিল ৮, ২০১৬
ভোলায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হত্যা: চার দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ
ভোলার তজুমদ্দিনে রিংকু বেগম (১৯) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ওই গৃহবধূর পরিবারের অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামী নাজিম উদ্দিন তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে। পরে স্ত্রীর মুখে বিষ ঢেলে দেয় পাষ- স্বামী। ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত মামলা নেয়নি পুলিশ। তবে, পুলিশ বলছে এটা হত্যা না, আত্মহত্যা। ঘটনার পর স্বামী পলাতক রয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত সোমবার রাতে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানাকান্দি গ্রামের চর মোজাম্মেল এলাকায় নাজিম উদ্দিনের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রিংকু বেগমের লাশ বাড়ির পাশে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে। তজুমদ্দিন থানার এসআই জাফরুল হাসান মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্টে উল্লেখ করেন, অল্প বয়সী স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধের জের হিসেবে মানসিক যন্ত্রণায় বিষাক্ত কোনো তরল পদার্থ পান করে ৫-৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ রিংকু আত্মহত্যা করেছেন মর্মে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে বিধায় মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য মৃতদেহ ভোলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা বরাবর প্রেরণ করা হলো। এদিকে, নিহত রিংকু বেগমের ভাই ফিরোজ অভিযোগ করেন, রিংকুর স্বামী নাজিম উদ্দিন তার বোনকে হত্যা করেছে। এরপর পাষ- স্বামী রিংকুর মুখে বিষ ঢেলে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা চালায় বলেও অভিযোগ করেন ফিরোজ। তিনি জানান, প্রায় এক বছর আগে তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানাকান্দি গ্রামের ছলেমানের মেয়ে রিংকুর সঙ্গে একই গ্রামের জাফরের ছেলে নাজিম উদ্দিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে এলাকায় বহুবার সালিসও হয়েছে। পারিবারিক কলহের জের ধরেই নাজিম তার স্ত্রী রিংকুকে হত্যার পর তার মুখে বিষ ঢেলে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করছেন বলেও দাবি ভাই ফিরোজের। ফিরোজ আরো অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা করতে চাইলে পুলিশ মামলা নেয়নি। তবে, রবিবার ভোলার আদালতে তিনি তার ভগ্নিপতির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করবেন বলেও জানান।  স্থানীয় ইউপি মেম্বার সিরাজ উদ্দিন বলেন, প্রায় এক বছর আগে বাবা-মার অমতে নাজিম উদ্দিন ও রিংকু প্রেম করে বিয়ে করে। কিছুদিন পরই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ দেখা দেয়। এ নিয়ে এলাকার অনেকে সালিস করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনার দিনও তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হয়েছিল। ঘটনার পর থেকে রিংকুর স্বামী গা ঢাকা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। চাঁদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফখরুল আলম জাহাঙ্গীর বলেন, গৃহবধূ রিংকুর মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামীর পরিবার বলছে আত্মহত্যা। আর বাবার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে অন্তঃসত্ত্বা রিংকুকে লাথি দিয়ে মেরে ফেলেছে তার স্বামী। তাই পুলিশকে বলা হয়েছে ময়নাতদন্ত করার জন্য। পুলিশ ময়নাতদন্ত করেছে। এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই বোঝা যাবে এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা। এ ব্যাপারে তজুমদ্দিন থানার ওসি মাসুম তালুকদার বলেন, গৃহবধূ রিংকুর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে। গৃহবধূকে হত্যার কোনো আলামত দেখা যায়নি। তাই এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তবে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপরাধ সংবাদ/রা