শরীয়তপুরে ধানের বাম্পার ফলন, ভাল দামের শঙ্কায় কৃষক

শরীয়তপুর প্রতিনিধি | শুক্রবার, মে ৬, ২০১৬
শরীয়তপুরে ধানের বাম্পার ফলন, ভাল দামের শঙ্কায় কৃষক
শরীয়তপুর জেলার ৬টি উপজেলায়ই বোরো ধানে বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া থাকা সত্ত্বেও বোরো ধানের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকে মুখে হাসি ফুটেলেও বাজারে ভাল দাম না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। ধান কাটায় কৃষকরা এখন ব্যাস্ত সময় পার করছে সেই সাথে পূর্ণ সহযোগিতা করছে কৃষানীরাও।

শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার ৬টি উপজেলায়ই কম বেশী ধানের চাষ হয়। এ বছর জেলায় ২৮ হাজার ৪শত ২৩ হেক্টোর জমিতে ধান চাষের জন্য লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মধ্যে শরীয়তপুর সদর উপজেলায় ৫ হাজার ৯শ ৯০ হেক্টোর, নড়িয়া উপজেলায় ৬ হাজার ১শ ৫২ হেক্টোর, জাজিরা উপজেলায় ১ হাজার ৩শ হেক্টার, ডামুড্যা উপজেলায় ৪ হাজার ৩শ ৪২ হেক্টোর, ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ৫ হাজার ১শ ৪৫ হেক্টোর এবং গোসাইরহাট উপজেলায় ৫ হাজার ৪শ ৯৪ হেক্টোর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সদর উপজেলার রুদ্রকর গ্রামের ধান চাষী আতাউর বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর আমাদের ধানের ফলন ভাল হয়েছে। কিন্তু বাজারে ভাল দাম পাচ্ছি না। কৃষি অফিসের মাধ্যমে ধান চাষের উপর আমাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং সেই প্রশিক্ষণকে সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পেরেছি বলেই ধানের ফলন ভাল হয়েছে।

নড়িয়া উপজেলার রাজনগর গ্রামের ধান চাষী ইমরান বলেন, এ বছর ধানের আবাদ ভাল হলেও বাজারে ভাল দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এ বছর ধান পোকা মাকড়ের অক্রমণ হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য কীট নাশক ব্যবহার করতে হয়েছে কিন্তু বাজারে ভাল দাম পাচ্ছি না কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আমরা সরকারের দেয়া ঘোষিত মূল্য পেলে তা পুষিয়ে নিতে পারর।

ডামুড্যা উপজেলার তিলই গ্রামের ধান চাষী সুভাস মন্ডল বলেন, ধানের ভাল ফলন হয়েছে এ কথা যেমন সত্য, তেমনি শংকায়ও রয়েছি। যদি ভাল বাজার মূল্য না পাই, তাহলে ধান নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছি, তা বাস্তবে প্রতিফলিত না হয়ে দুঃস্বপ্নেই পরিণত হবে। আমাদের কষ্টের ফসলে ভাল দাম পেলে খুশি হবো।


এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ কবির হোসেন বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর শরীয়তপুর জেলায় ধানের আবাদ ভাল হয়েছে। তবে বাজারে ধনের দাম কম থাকায় কৃষকরা কিছুটা বিপাকে পড়েছে কৃষক। সরকার কৃষকদের কাছ থেকে কেজি প্রতি ২৩ টাকা দরে ধান কেনার ঘোষনা দিয়েছে। তা কার্যক্রম শুরু হলে কিছুটা ক্ষতি পোষাতে পারবে। তিনি আরও বলেন, এবছর কৃষকরা ধান চাষে যাতে বেশী উৎসাহী হয় সে জন্য উন্নত বীজ প্রদান সহ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, সরকারী ভাবে ধান চাষীদেরকে সঠিক ভাবে তদারকীর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। ফলে আমাদের লক্ষ্য মাত্রার চেয়েও বেশী ফলন হয়েছে।