লালমনিরহাটে ৩ ইউপি সদস্য প্রার্থীকে হত্যাচেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার | শুক্রবার, মে ৬, ২০১৬
লালমনিরহাটে ৩ ইউপি সদস্য প্রার্থীকে হত্যাচেষ্টা
 চতুর্থ দফায় লালমনিরহাটের দুটি উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে নিবার্চন হতে যাচ্ছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে সদর ও আদিতমারি উপজেলার তিন ইউপি সদস্য প্রাথীকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। গত বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড সদস্য প্রার্থী রফিকুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। আহত অবস্থায় তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত রফিকুল ইসলাম জানান, রাতে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞাত ৫/৬ যুবক ধারালো চাপাতি দিয়ে পিছন দিক থেকে তাকে কুপাতে থাকে। এ সময় তার চিৎকারে পার্শ্ববর্তী মন্ডলের হাট বাজারের পাহারাদার এগিয়ে আসলে দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা রাতেই তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে, হারাটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে বৃহস্পতিবার দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে ৭জন আহত হয় বলে জানা গেছে। সদরের পঞ্চগ্রাম ইউপি মেম্বার প্রার্থী অতুল চন্দ্রের উপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষের লোকজন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে প্রচারণা শেষে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন মুখোশধারী তার পথ রোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরে তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। কমলাবাড়িতে বিদ্রোহী প্রার্থী মোরশেদ ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শওকত আলীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ওই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য প্রাথী গাজিউলের ওপরও চালানো হয়েছে হামলা। তাকেও কুপিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। আদিতমারি থানার ওসি আকতার হোসেন জানান, নিবার্চনে এসব ঘটনার প্রভাব পড়বে না। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে আদিতমারির ভেলাবাড়ি ও দুর্গাপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুর্গাপুরের বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী সালেকুজ্জামান জানান, তার কর্মী সমর্থকদের ওপর সরকারদলীয় ক্যাডাররা হামলা চালিয়ে প্রচারণায় বাধা দিয়েছে। সুষ্ঠু ভোট হবে কিনা তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত। ভেলাবাড়ির বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া রিপন শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ আলী ও তার ক্যাডাররা প্রকাশ্যে ভোটারদের টাকা দিচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনকে অবগত করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তবে টাকা দিয়ে ভোট কেনার কথা অস্বীকার করেন মোহাম্মদ আলী। লালমনিরহাট পুলিশ সুপার টি এম মুজাহিদুল ইসলাম কয়েকটি ইউপিতে সংঘর্ষের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ভোটের আগে যাই হোক, ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।