রোয়ানু প্রভাবে লন্ড ভন্ড ভোলা লাখো মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ, নিহত-৩ তলিয়ে গেছে ২৫ গ্রাম

মেহেদী হাসান তানজীল, ভোলা জেলা প্রতিনিধি | রবিবার, মে ২২, ২০১৬
রোয়ানু প্রভাবে লন্ড ভন্ড ভোলা
লাখো মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ, নিহত-৩
তলিয়ে গেছে ২৫ গ্রাম
ভোলায় ঘূর্নিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়ে সাত উপজেলার অন্তত ২ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তজুমদ্দিন উপজেলায়।
ঘরচাপা পরে মারা গেছে ২ নারী ও শিশুসহ তিন জন। নিহতরা হলেন, তজুমদ্দিনের একরাম (১৪), রানু (৩৫) এবং দৌলতখান উপজেলার দক্ষিন জয়নগর গ্রামের রানু বিবি (৫০)।
শনিবার (২১ মে) ভোর রাতে থেকে বিকাল পর্যন্ত এসব ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে এখনও জেলা জুড়ে দুর্যোগপূর্ন আবহাওয়া বিরাজ করছে। এতে আতংকিত উপকূলের মানুষ।
এদিকে অতি জোয়ারের জেলার লালমোহন ও মনপুরয় বাধ ভেঙ্গে শত শত ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। লালমোহন লর্ডহাডিঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম বলেন, ঝড়ে কারনে দুর্গত এলাকায় দুপুর থেকে রেডক্রিসেন্ট ও সিপিপির সাড়ে ১০ হাজার কর্মী উদ্বার কাজে অংশ নিয়েছেন।
অপরদিকে নিহত দুই পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার করে ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। ভোলার জেলা প্রশাসক মো: সেলিম উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ঘড়টি ক্রমেই অগ্রসর হলেও ভোলার উপকূলে আঘাত আসেনি’ অরপদিকে ঝড়ের গাছপালা উপচে পড়ায় জেলা সদরের সাথে ৭ উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিণœ রয়েছে।
এদিকে, তজুমদ্দিন উপজেলার সদরের ৫ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত হয়েছে এতে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে।
এদিকে, ঘূর্নিঝড় রোয়ানু প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়ে ভোলার অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ২ লাখের অধিক মানুষ। শনিবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত এসব এলাকা প্লাবিত হয়। এছাড়াও বেশ কিছু পয়েন্ট দিয়ে বাধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ন জনপদ তলিয়ে গেছে।
ভোলা সদরের রাজাপুর, দৌলতখানের মদনপুর, নেয়ামদপুর, মেদুয়া, বোরহানউদ্দিনের পক্ষিয়া, তজুমদ্দিনের চাদপুর ইউনিয়নের ৫টি গ্রাম, লালমোহন উপজেলার লর্ডহাডিঞ্জ ও চরফ্যাশন উপজেলার কুকরী-মুকরী, চর পাতিলা, ঢালচর, মাদ্রাজ ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর চর নিউটন হামিদপুর, মেজামপুর, চর নাজিম উদ্দিন গ্রাম প্লাবিত হয়।
কুককী-মুকরী ইউপি সদস্য সালাম বলেন, পুরো এলাকা জোয়ারে পানিতে তলিয়ে গেছে, এতে দুর্ভোগে পড়েছেন ইউনিয়নের সব বাসিন্দা।
ঢালচর ইউপি চেয়ারম্যান সালাম হাওলাদার বলেন, অতি জোয়ারে ইউনিয়নের ১৭ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বেশ কিছু ঘরবাড়ি।
বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নে বাধ ভেঙ্গে পুরো ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে শত শত পরিবার গৃহবন্দি হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
লর্ডহাডিঞ্জ ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম বলেন, বাধ ভেঙ্গে ৯গ্রাম প্লাবিত হয়েছে, এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন হাজারো মানুষ।
তজুমদ্দিনের ঘের মালির আ: রশিদ জানান, জোয়ারের পানিতে আমার ৪টি মাছের খামারের ১০লাখ টাকার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পানিতে মাছ ভেসে গেছে। এছাড়াও বসত ঘরটি বিধ্বস্ত হয়েছে’।
মনপুরা উপজেলার কলাতলী, রামনেওয়াজ, চৌমুহনী, হাজিরহাট ও সাকুচিয়া এলাকায় প্লাবিত হয়েছে। সেখানে অন্তত ২ শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।
এদিকে, ভোলা সদরের মধ্যে চরনোয়াবাদ এলাকার কালু সর্দার বাড়ীর ১৫/১৬টি ঘর টর্নেডোর আঘাতে মাটির সাথে মিশে গেছে। এসময় ঘরে থাকা দুই শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। তাদেরকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। তলিয়ে গেছে মাছের ঘের, পুকুর ও ফসলী জমি। এছাড়াও ভোলা সদর উপজেলার আবহাওয়া অফিস সড়কের মোঃ মমিনুল ইসলাম (মন্টু মিয়া) বসতঘর ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে সম্পন্ন বিধ্বস্ত হয়ে মাটিতে মিশে গেছে। শুক্রবার ভোর রাতে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ঘরে থাকা মালামালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মন্টু মিয়া জানান। তবে এ ঘটনায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ভোলার জেলা প্রশাসক মো: সেলিম উদ্দিন বলেন, নিহত দুই পরিবারকে ২০ হাজার করে মোট ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরী করা হচ্ছে।
এদিকে, বিধ্বস্ত ও ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ খোলা আকাশের নিচে দিন অতিবাহিত করছে। মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন তারা।