শরীয়তপুর পূবালী ব্যাংকের ক্যাশে জাল টাকার অস্তিত্ব মিললো

শরীয়তপুর প্রতিনিধি: | বুধবার, মে ২৫, ২০১৬
শরীয়তপুর পূবালী ব্যাংকের ক্যাশে জাল টাকার অস্তিত্ব মিললো
জেলার পূবালী ব্যাংকের ক্যাশিয়ার নজরুলের কাছ থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা উত্তোলন করে। তার মধ্যে ২টি ৫শ’টাকার জাল টাকার নোট বেড় হলে মিজান মীর পাল্টে দিতে বললে ক্যাশিয়ার গ্রাহককে লাঞ্চিত করেন। মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে পূবালী ব্যাংক শরীয়তপুর শাখায় এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সদর উপজেলার বিলাস খান নিবাসী মিজান মীরের স্ত্রী আছমা আক্তারের সঞ্চয়ী হিসাব নং ৮৫৯৩৫ থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে উত্তোলন করেন। ক্যাশ থেকে টাকা গ্রহনের পর আছমা আক্তারের স্বামী মিজান মীর ক্যাশের সামনে দাঁড়িয়ে টাকা গনণার সময় ব্র্যাক ব্যাংকের সীল মোহর যুক্ত ও কলম দিয়ে ক্রস চিহ্নিত দেওয়া দুটি ৫০০ টাকার নোট পরিবর্তন করে দেয়ার জন্য বলেন। এ সময় ক্যাশের দায়ীত্বে থাকা নজরুল ইসলাম গ্রাহককে টাকা ফেরত না দিয়ে লাঞ্চিত করেন। এ সময় টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে উপস্থিত থাকা প্রতিবেদক এ ঘটনার ছবি তোলে এবং গ্রাহক, ক্যাশিয়ার ও ম্যানেজারের বক্তব্য চাইলে ক্যাশিয়ার সাংবাদিকদের অপমান জনক কথা বলে।

লাঞ্চিত গ্রাহক মিজান মীর বলেন, আমি ক্যাশ থেকে টাকা নিয়ে গননার সময় নোট দুটি দেখে সন্দেহ হয় (টাকা দুটির নাম্বার খ চ ৭৪০৪০৪৪ ও ক দ ২৭২৫০৩০) ক্যাশিয়ারকে আমি পরিবর্তন করে দেয়ার কথা বলি । তখন ক্যাশিয়ার টাকা পরিবর্তন না করে আমাকে ৫০০ টাকার নোট দুটি জাল বলে লাঞ্চিত করে।  
লাঞ্চিত গ্রাহক মিজান মীর এর স্ত্রী আছমা বেগম বলেন, আগে জানতাম ব্যাংক নিরাপদ। এখন দেখি জাল টাকা ব্যাংকেও মিলছে। এটা ঠিক নয় এর বিচার হওয়া উচিত।

কয়েকজন গ্রাহক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নজরুল ইসলাম ক্যাশে আসার পর থেকে মাঝে মাঝে টাকার বান্ডিলে জাল টাকা পাওয়া যায় এবং গ্রাহকদের সাথে খারাপ আচরণ করেন। ম্যানেজারকে বলেও প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

পূবালী ব্যাংক শরীয়তপুর শাখার ক্যাশিয়ার নজরুল ইসলাম বলেন, আমি জাল টাকা দেইনি। বান্ডিলে কিভাবে নোট দুটো এসেছে আমি জানিনা । তাই টাকা দুটো পরিবর্তন করে দেয়া সম্ভব হয়নি।

পূবালী ব্যাংক শরীয়তপুর শাখার ব্যবস্থাপক কাজী জালাল উদ্দিন বলেন, আমি এই ব্যাপারটি শুনেছি। গ্রাহক টাকা নিয়ে সমস্যার কথা আমাকে জানাবে, কিন্তু আমাকে না জানিয়ে ক্যাশে দাঁড়িয়ে ভীর বাড়িয়েছে। আমাদের ব্যাংক থেকে জাল টাকার নোট দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। আমাদের ব্যাংকের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোন অভিযোগ নেই। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি।