এমপির চুরি করা চাল যুবলীগ হরিলুট করে নিয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার | বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০১৫
এমপির চুরি করা চাল যুবলীগ হরিলুট করে নিয়েছে

পাচার করার সময় ফেনী-৩ আসনের স্বতন্ত্র সেই সংসদ সদস্য ও জেদ্দা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী রহিম উল্ল্যাহর টিআর কাবিখার ৪৫ টন চাল হরিলুট করেছে আওয়ামী লীগ-যুবলীগ নেতারা। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ১০-১২ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার বিকেল ৪টার দিকে ফেনী সোনাগাজী সড়কের ধলিয়া বাজারে চালের পিকআপ ভ্যান আটকে হরিলুট করে নিয়ে যান তারা।

ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম হাজারীর নির্দেশে তার মামতো ভাই আজিজুল হক হিরণ, ভাগিনা ফারুক, নাছির উদ্দিনের নেতৃত্বে চাল হরিলুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এমপি রহিম উল্যাহ।

এ ব্যাপারে এমপি রহিম উল্যাহ জানান, টিআর কাবিখার ৪৫ টন চাল ফেনীর ডিলার মো. দেলোয়ার হোসেনের কাছে বিক্রি করেন এমপি রহিম উল্যাহ। বুধবার বিকেল ৩টার দিকে ডিলারের গাড়িতে চাল বোঝাই করার সময় আওয়ামী লীগ নেতারা লুট করতে এলে পুলিশের সহযোগিতায় তা ব্যর্থ হয়। পরে সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নবীর হোসেনের সহযোগিতায় চালের বস্তাগুলো ফেনীর উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়।

এমপি রহিম উল্যাহ আরো জানান, বিকেল ৪টার দিকে তিনটি চালের পিকআপ ভ্যান সোনাগাজীর সীমানা পার হয়ে ফেনী সদর উপজেলায় প্রবেশ করলে সোনাগাজীর পুলিশ চলে যায়। এ সময় সোনাগাজী আওয়ামী লীগ ও স্থানীয় ধলিয়া ইউনিয়নের যুবলীগ নেতারা ধলিয়া বাজারে গাড়ি আটক করে চাল নিয়ে যায়। এ সময় তারা পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করে।

এমপি রহিম উল্যাহর ব্যক্তিগত সহকারী জুলফিকার হোসেন দিদার মাসুদ জানান, দুপুর থেকে ফেনীর সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) সামছুল আলম সরকার পুলিশ স্কট দিয়ে গাড়ি পার করে দেবেন বলে জানালেও বাস্তবে তিনি তা করেননি। বিষয়টি পুলিশ কন্ট্রোলরুমেও জানানো হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চাল হরিলুটের সময় ধলিয়া বাজারের বিভিন্ন সড়কে চাল পড়ে ছিল। ধলিয়া ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের মোস্তফা ডাক্তার বাড়ির লাতু মিয়া ওরফে কেটু মিয়াকে কাঁধে করে চালের বস্তা নিতেও দেখা গেছে। চালের বস্তায় লেখা রয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর। তিনি আওয়ামী লীগের কর্মী বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে ফেনীর সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) সামছুল আলম সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার মুঠোফোনটি অন্য একজনে রিসিভ করেন। পুলিশ সুপার কোথায় আছেন জানতে চাইলে রিসিভকারী জানান, স্যার মুঠোফোনটি অফিসে রেখে গেছেন।

পুলিশ সুপার রেজাউল হক পিপিএম জানান, তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। এ সময় ফেনী মডেল থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

তবে ফেনী মডেল থানার ওসি মাহবুব মোরশেদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ধলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক আনোয়ার আহম্মদ মুন্সী জানান, এমপি উল্যাহ সোনাগাজী থেকে ফেনীতে চাল পাচারকালে তারা আটক করেন।

বিষয়টি পুলিশকে জাননো হয়েছে। তবে চাল হরিলুটের বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় ফেনী সার্কিট হাউজে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের উপস্থিতিতে যুবলীগ নেতাদের হাতে লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হন এমপি রহিম উল্যাহ। ওই রাতে তিনি ঢাকায় চলে যান। এরপর গত ৯ ডিসেম্বর সোনাগাজী যাওয়ার পথে পুনরায় ফেনীর লালপুল ও সোনাগাজী জিরো পয়েন্টে তার গাড়ি বহরে হামলা করেন ছাত্রলীগ নেতারা।

অপরাধ সংবাদ/কে,আই,এ