বুধহাটা-হাবাশপুরে পিটিয়ে গর্ভের সন্তান নষ্ট মামলার আসামীরা বেপরোয়া

অপরাধ সংবাদ ডেস্ক | মঙ্গলবার, জুন ৭, ২০১৬
বুধহাটা-হাবাশপুরে পিটিয়ে গর্ভের সন্তান নষ্ট মামলার আসামীরা বেপরোয়া
 প্রকাশ্য দিবালোকে দলবেধে বাড়িতে ঢুকে গৃহবধুকে হত্যার চেষ্টা ও বেদম মারপিট করায় হসাপাতালের বেডে দীর্ঘ যন্ত্রনায় ছটফট করার পর গর্ভপাতের ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বাদী পক্ষ চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক চাপে পড়ে বিপন্ন হতে চলেছে।
মামলার আরজিতে প্রকাশ, ফিংড়ী ইউনিয়নের হাবাশপুর গ্রামের মৃতঃ ওহাব গাজীর পুত্র রবিউল ইসলাম বুধহাটা গ্রামের রুহুল আমিনের কন্যা তুরকিস বেগমকে বিয়ে করেন। প্রায় দু’বছর আগে তুরকিস স্বামীকে ছেড়ে অন্যত্র চলে গেলে স্থানীয় ভাবে মিমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে ৭ মাস পূর্বে তিনি রতœা খাতুনকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে ঘরে তোলেন। এতে তুরকিসসহ তার পক্ষের লোকজন রতœাকে স্বামীর ঘর থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা এবং মারপিট ও হত্যার হুমকী দিয়ে আসছিল। বিষয়টি স্থানীয় জন প্রতিনিধি ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। গত ১১ মে বিকাল ৫ টার দিকে তারা পূর্ব পরিকল্পিক ভাবে বাদীর বাড়িতে ঢুকে স্বামীর অনুপস্থিতিতে রতœার উপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা ও পেটের সন্তান নষ্ট করে দেয়ার হুমকী দিয়ে পেটে, বুকে, মাথায় লাঠি, হাত-পা দিয়ে বেদম আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। তাকে সাতক্ষীরা সদর হাতপাতালে ভর্তির পর ১৯ দিন চিকিৎসা করান হয় কিন্তু গর্ভের সন্তান রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এব্যাপারে রতœা খাতুন বাদী হয়ে বুধহাটা গ্রামের রুহুল আমিন মোল্যা, জয়নুদ্দিন মোল্যা, শরিফুল, তুরকিস এবং হাবাশপুর গ্রামের গোপাল ঘোষ, সুচিত্ররানী ঘোষসহ ৯ জনকে আসামী করে অতিঃ চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করে। বিজ্ঞ আদালত শুনানী শেষে ওসি সদর থানা সাতক্ষীরাকে এফআইআর হিসাবে গ্রহনের আদেশ দিলে থানায় মামলা (নং ১০ তাং ৪/৬/১৬) রুজু করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে আসামীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের পুলিশ কিছুই করতে পারবে না বলে আসামীরা আস্ফালন করে বেড়াচ্ছে এবং বাদী ও স্বাক্ষীদেরকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিয়ে চলেছে। মামলা না উঠালে দেখে নেবে বলে হুমকীও দিয়ে চলেছে বলে তারা অভিযোগ করেন। আসামীদের গ্রেফতার করে তাদের জীবনের নিরাপত্তাদানের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন বাদী ও স্বাক্ষীরা।