শিশুদের সামনে আদর চাদরাবৃত রাখুন !

মনোনেশ দাস, | বৃহস্পতিবার, জুন ৯, ২০১৬
শিশুদের সামনে আদর চাদরাবৃত রাখুন !
 সেই ছোট্টবেলার কথা মনে করুন। বুঝতে শিখেছেন অবধি নির্দিষ্ট বয়সীমা পর্যন্ত আপনি যা করেছেন কিংবা হতে দেখেছেন তার কিছুই ভুলেননি বরং স্মৃতি হাতড়ালে স্বচ্ছ আয়নার মত স্মৃতির মানসপটে সব কিছুর ধারণা প্রতিফলিত হচ্ছে। সেই ৪ বছর বয়সে কবে কোথায় আছাড় খেয়েছিলেন, কোথায় কেটে গিয়েছিল, কে ভালোবেসেছিল কিংবা কে বকা দিয়েছিল-এর কিছুই ভুলেননি আপনি। শিশুকালের স্মৃতি স্বচ্ছ আয়নার মত, সেখানে কিছু একবার দাগ কাটলে তা সহজে মুছে যায়না। তাইতো বলা হয়, শিশুকালের লেখাপড়া পাথরে খোদাই করা, বৃদ্ধকালের লেখাপড়া পানিতে অঙ্ক করা। কাজেই প্রত্যেক বাব-মা তথা বড়দের উচিত শিশু-সন্তাদের সামনে এমন আচরণ করা, যার কারনে নেতিবাচক কোন প্রভাব শিশুর মনে দাগ না কাটে।
জৈবিক প্রেষণা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। বিবাহ থেকে শুরু করে এ সংশ্লিষ্ট এবং এর দ্বারা সংগঠিত কোন কার্যের প্রয়োজনীয়তা বুদ্ধিমান মানুষ থেকে মানবেতার প্রাণী-কেউ অস্বীকার করতে পারে না। বংশবৃদ্ধির ধারা রক্ষা এবং জৈবিক চাহিদা পূরণের জন্য পারস্পরিক যুগলবন্দীর গুরুত্ব অপরিসীম। শুধু মানুষ নয় বরং মানবেতর পশুরাও এ প্রবৃত্তি দ্বারা পরিচালিত হয়। তবে পশু এবং মানুষের মধ্যে পার্থক্য শুধু এটুকুই-পশুরা মিলিত হওয়ার সময় তাদের মধ্যে কোন গোপনীয়তা থাকে না কিন্তু মানুষ, মানুষের থেকে আড়ালে রাখা অপরিহার্য।
শুধু দৈহিক মিলন নয় বরং শিশুদের সামনে বয়স্কদের এমন কোন আচরণ করা উচিত নয় যার কারনে শিশুমনে এর কোন খারাপ প্রভাব প্রতিফলিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যারা সন্তান নিয়ে এক বিছানায় ঘুমায়, তাদের উচিত পারস্পরিক কথা বলার সময় সীমা রক্ষা করা এবং শিশু চেতনায় নাকি অচেতনে তা নিশ্চিত হওয়াও জরুরী। সন্তান নির্দিষ্ট বয়স প্রাপ্তির সাথে সাথে তার বিছানা আলাদা করে দিতে হবে। বেডরুম আর গেষ্টরুমের পার্থক্যটা যদি সব দম্পতি স্মরণে রেখে তাদের আচরণগুলো বজায় রাখে তবে তাদের সন্তান বিপথে যাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই শুণ্যের কোটায়।
পরিবার শিশুর বেড়ে ওঠায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। পঞ্চম-ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়াদের প্রেম কিংবা দৈহিক সম্পর্কে মিলিত হওয়ার যে দুঃসংবাদ আমরা নিয়ত শুনছি, তাতে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে বাবা-মায়ের অসচেতনতা ভূমিকা রেখেছে এবং বৃহত্তর দায়টাও তাদের। এই বয়সের শিশুরা পরিবারের বড়দের আচরণ সহ যাবতীয় বিষয়গুলো খুব বেশি অনুসরণ ও অনুকরণ করে। বড়রা যে পথে হাঁটে এরাও সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করে। বড়দের পথচলা সুপথের চেয়ে কুপথে বেশি হওয়ার ফলে, গোটা সমাজ ধুঁকতে শুরু করেছে।
স্বামী-স্ত্রী কিংবা বড়দের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ দিয়েছে প্রকৃতি, ধর্ম, সমাজ এবং বিশ্বাস। কিন্তু এ সম্পর্কের প্রকাশ্যতা গোটা সমাজকে করে তুলছে বিশৃঙ্খল এবং অনাচারে ডুবিয়ে দিচ্ছে মানুষের সম্মান। বুদ্ধিবৃত্তি সম্পন্ন মানুষ ও বুদ্ধিহীন জানোয়ারের পারস্পরিক মিলিত হওয়ার ধরণে খুব বেশি পার্থক্য না থাকায় বর্তমানের এই অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি। বয়স মানুষকে তার চাহিদা শিক্ষা দেবে। প্রকাশ্যে পারস্পারিক জড়াজড়ি করে শিশুদের যা শেখানো হচ্ছে তাতে পরিণামের ক্ষতির ভোগ বেশি পোহাতে হবে বাবা-মা তথা সমাজকে। মানুষ হিসেবে শুভের ধারণাটা অন্তত আমাদের থাকা উচিত। বাবা-মায়েরা যথেষ্ট সাবধানতার পথ অবলম্বন করুন।প্রজন্মকে ধ্বংসের পথ দেখিয়ে আপনাদের কার্যসিদ্ধি করার মত আত্মঘাতী কাজ করতে যাবেন না।