লক্ষ্মীপুরে কৃষকের ধানের টাকা দালাল চক্রের পকেটে

নিজস্ব প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার, জুলাই ২১, ২০১৬
লক্ষ্মীপুরে কৃষকের ধানের টাকা দালাল চক্রের পকেটে
লক্ষ্মীপুরে কৃষকদের উৎপাদিত ধান দালাল চক্রের মাধ্যমে সংগ্রহ করছে জেলা খাদ্য অধিদপ্তর। এতে সরকারের মোটা অংকের ভূর্ত্তুকির টাকা কৃষকদের না দিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তার যোগসাজসে হাতিয়ে নিচ্ছে এক শ্রেনীর দালাল চক্র। এতে ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় চরম হতাশায় ভূগছে এ জেলার কৃষকরা।
এমন অভিযোগে বুধবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে অভিযান চালিয়ে জড়িত থাকায় দালাল চক্রের ৩ সদস্যকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অর্থদন্ড প্রদান করেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নুরুজ্জামান। এ সময় সরকারী ৪৫৮ বস্তা ধান ও শতাধিক খালি বস্তা জব্দ করা হয়।
 এর আগে বুধবার  দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা সমর কান্তি বসাক কে সঙ্গে নিয়ে জেলা খাদ্য গুদাম এলাকায় অভিযান চালায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা। এ সময় দালাল চক্রের মূল হোতা তোফায়েল আহম্মেদ ওরফে আটা তোফালকে খাদ্যগুলামের অফিস সহকারীর চেয়ারে বসে নির্দেশনা দেওয়া অবস্থায় ও আবুল কাশেম নামের আরেক দালালকে কৃষকদের ৩টি চেক বই ও ৩টি জাতীয় পরিচয়পত্রসহ হাতে নাতে আটক করা হয়। আটকতৃ দালাল আটা তোফালের ১লাখ টাকা অনাদায়ে ৩মাসের কারাদন্ড, আবুল হাসেমকে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়।   
আটককৃত আটা তোফাল পৌর শহরের বাঞ্চানগর গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে ও বাজারের বিশিষ্ট আটা ব্যবসায়ী। তার নিয়ন্ত্রনেই চলে পুরো ধান সংগ্রহের কার্যক্রম। এছাড়া আবুল কাশেম সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ গ্রামের জয়নাল আবেদিনের ছেলে।
পরে বিকেলে আটকৃতদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী একই উপজেলার ভবানীগঞ্জ বাজারের মেসার্স রাশেদ ষ্টোর নামের ইউনিয়ন আ’লীগের সহ-সভাপতি তসলিম নেতার আড়ৎ ঘরে। এ সময় অভিযান চালিয়ে ওই আড়ৎঘরে থাকা ৫০ কেজি ওজনের সরকারী ৪৫৮ বস্তা ধান ও শতাধিক খালি বস্তা জব্দ করা হয়। এ সময় জড়িত সন্দেহে নুরুল আলম নামে এক কৃষককে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে মুছলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।   
এ ঘটনায় আ’লীগ নেতা ও রাশেদ ষ্টোর এর মালিক তসলিম নেতার কাছে মোবাইলে জানতে চাইলে, তিনি কিছু জানে না বলে মোবাইল কেটে দেয়। এর পর একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা, বর্তমান সরকার কৃষকের ধানের ন্যায্য মূল্য দেওয়ার জন্য ভূর্ত্তকি দিয়ে ৯২০টাকা মোনে ধান সংগ্রহ কর্মসূচী শুরু করেন। এ ধান সংগ্রহের কর্মসূচী চলবে আগামী ৩১জুলাই পর্যন্ত। প্রতি কৃষক থেকে সর্বোচ্চ ধান সংগ্রহ করবে ৩টন করে। লক্ষ্মীপুর সদরে ১৬৭০টন ধান সংগ্রহ করার কথা রয়েছে। কিন্তু লক্ষ্মীপুর জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে একটি দালালচক্র সরকারের এ কর্মসূচীকে বিদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে সাড়ে ৫শ খেবে ৬শ টাকায় কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করে। পরে তা ৯২০টা দরে খাদ্য গুদামে বিক্রি করে দেয়। অভিযোগ রয়েছে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করে না জেলা খাদ্য অধিদপ্তর।

ভবানীগঞ্জ গ্রামের মোঃ ইসমাইলসহ একাধিক কৃষক জানায়, খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে গেলে ধানে চিটা আছে সহ নানা অযুহাত দেখিয়ে কর্মকর্তারা তাদের ফিরেয়ে দেয়। কিন্তু ওই ধান সাড়ে ৫শ টাকা দরে দালালের কাছে বিক্রি করলে তা খাদ্য অধিদপ্তরের বস্তায় ভরে নিয়ে যায় সরকারি গুদামে। সাথে দালাল নিয়ে যায় তাদের চেক বইও।
     
এ বিষয়ে সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোঃ শাহাদাৎ হোসেন অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, বিষয়টি সঠিক নয়। সম্পূর্ণ সরকারী নিয়ম অনুযায়ী ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে।     

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নুরুজ্জামান বলেন, অভিযান চালিয়ে ৩ দালালকে ভ্রাম্যান আদালতের মাধ্যমে অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের তথ্য মতে অভিযান চালিয়ে  খাদ্য অধিদপ্তরের সীল সম্বলিত সরকারি ৪৫৮ বস্তা ধান জব্দ করা হয়েছে। এ অভিযান অব্যহত থাকবে।

রুবেল হোসেন
লক্ষ্