আক্কেলপুরে ফেন্সিডিলসহ আটক হওয়া ব্যক্তিকে একদিন পর থানা হাজত থেকে ছেড়ে দিল পুলিশ!

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট)সংবাদদাতাঃ ২৩ জুলাই/১৬ ইং। | শনিবার, জুলাই ২৩, ২০১৬
আক্কেলপুরে ফেন্সিডিলসহ আটক হওয়া ব্যক্তিকে একদিন পর থানা হাজত থেকে ছেড়ে দিল পুলিশ!

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে তিন বোতল ফেন্সিডিলসহ আনোয়ারুল ইসলাম ওরফে পলাশ (২৫) নামে একটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিকে একদিন থানা হাজতে আটক রাখার পর গতকাল শুক্রবার বিকেলে তাঁকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।  থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন আনোয়ারুল ইসলাম ছেড়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। ওসি বলেন, ফেন্সিডিলসহ আটক আনোয়ারুল ইসলাম পেশাদার ফেন্সিডিলসেবী নয়। তিনি রুবেল হোসেন (৩২) নামে এক  ফেন্সিডিল ব্যবসায়ীর কাছ ফেন্সিডিল কিনেছিলেন। আমরা রুবেল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছি।
থানা থেকে ছাড়া পাওয়া আনোয়ারুল ইসলাম দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ভাতকাও গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে।  
প্রত্যক্ষদর্শী ও থানা সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় আক্কেলপুর- গোবরচাপা সড়ক দিয়ে ওষুধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি আনোয়ারুল ইসলাম মোটরসাইকে যোগে দ্রুতগতিতে আক্কেলপুর পৌরশহরে আসছিলেন। এসময় পৌরশহরের আমুট্ট চারমাথা সড়কের মোড়ে  (আক্কেলপুর পেট্রল পাম্প সংলগ্ন) বসে গল্প করছিলেন জয়পুরহাট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাহিদ আরেফিনসহ তাঁর বন্ধুরা।    এসময় মোটরসাইকেলটি থামাতে বলেন তাঁরা। আনোয়ারুল সেখানে মোটরসাইকেলটি না থামিয়ে দ্রুত আক্কেলপুর রেলগেট এলাকায় পাপ্পু আকন্দের ওষুধের দোকানে আসেন। পুলিশ এসে আনোয়ারু ইসলামের মোটরসাইকেলে থাকা ব্যাগ তল্লাসী করে তিন বোতল ফেন্সিডিলসহ তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ওই ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে থানা পুলিশ নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার গোপালপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে রুবেল হোসেনকে আটক করে।
জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাহিদ আরেফিন বলেন, মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুতগতিতে আসা দেখে সন্দেহ হয়েছিল। তাই মোটরসাইকেলটি থামাতে বলেছিলাম। কিন্ত আরোহী সেখানে মোটরসাইকেলটি থামায়নি। ওই আরোহী রেলগেট এলাকায় অবস্থিত পাপ্পু আকন্দর ওষুধের দোকানে এসে মোটরসাইকেলটি থামালে পুলিশ তাঁর ব্যাগ তল্লাসী করে তিন বোতল ফেন্সিডিল পায়। পুলিশ ফেন্সিডিলসহ তাঁকে থানায় নিয়ে যায়।
আনোয়ারুল ইসলাম  বলেন, তিনি একটি ভেটেনারী ওষুধ কোম্পানীর বিক্রিয় প্রতিনিধি হিসেবে আক্কেলপুর উপজেলায় কর্মরত আছেন। তিনি আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রার পিছনে একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। দুই বন্ধু তাঁর বাসায় এসেছেন। তাঁদের জন্য তিন বোতল ফেন্সিডিল কিনেছিলেন। একটু ঝামেলা হওয়ায় পুলিশ তাঁকে আটক করেছে।
 গত শুক্রবার বিকেলে থানায় গিয়ে দেখা যায়, তিন বোতল ফেন্সিডিলসহ আটক হওয়া আনোয়ারুল ইসলাম লুঙ্গি পড়ে থানা থেকে চলে যাচ্ছিলেন। সেখানে এই প্রতিবেদককে দেখে আনোয়ারুল ইসলাম তাঁর মুখমন্ডল লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন। তখন তাঁর সঙ্গে দুইজন তরুণও ছিলেন। থানা হাজতে থাকা রুবেল হোসেন নামে ওইব্যক্তি জানান, পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে  তাঁকে বাড়ি থেকে ধরে এনেছেন।
আনোয়ারুল ইসলামের ছাড়া পাওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে থানার উপ-পরিদর্শক মাহবুর রহমান বলেন, আপনি ওসি স্যারকে জিজ্ঞেস করেন।
ওসি সাজ্জাদ হোসেন বলেন, তিন বোতল ফেন্সিডিলসহ আটক হওয়া আনোয়ারুল ইসলাম পেশাদার মাদকসেবী নয়। তিনি আমাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে জানান, বদলগাছি উপজেলার গোপালপুর গ্রামের রুবেল হোসেন তাঁকে ফেন্সিডিলগুলো দিয়েছিল। আমরা মাদক ব্যবসায়ী রুবেলকে আটক করেছি আর আনোয়ারুল ইসলামকে মা-বাবার জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছি। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা কাল্পনিক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জয়পুরহাট আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল গতকাল শুক্রবার বিকেল বলেন, যে ব্যক্তির হেফাজতে মাদকদ্রব্য পাওয়া যাবে সেইব্যক্তিই অপরাধী। তাঁকে আইনের আওতায় আনতে হবে। পুলিশ তাঁকে ছেড়ে দিতে পারবে না।