শরীয়তপুরে পদ্মার ভাঙ্গেনের শিকার ৭ শতাধীক পরিবার; শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত

শরীয়তপুর প্রতিনিধি, | সোমবার, আগস্ট ১, ২০১৬
শরীয়তপুরে পদ্মার ভাঙ্গেনের শিকার ৭ শতাধীক পরিবার; শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত
শরীয়তপুরের ৬টি উপজেলার ৪টি উপজেলায় পদ্মার ভাংঙ্গনে ৭ শতাধীক পরিবারের বসতবাড়ী, বাজারের দোকান ঘর ও ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।  পদ্মার নদী ভাংঙ্গনে জাজীরা উপজেলার ১৮ টি গ্রামে ৪ শতাধীক পরিবার, নড়িয়া উপজেলার শতাধীক পরিবার, ভেদরগঞ্জ উপজেলার ১৩০টি পরিবার এখন নদী ভাংঙ্গনের শিকার হয়ে নি:শ্ব হয়ে পড়েছেন। এছাড়া আজ রোববার পদ্মার পানি সুরেশ্বর ও জাজিরা পয়েন্টে বিপদ সিমার ৩৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার নদীর তীরবর্ত্তী ১৫টি ইউনিয়নে শতাধীক গ্রামের মানুষ পানি বন্দী হয়ে মানবতার জীবন যাপন করছে। প্লাবিত এলাকায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও গবাদী পশুর খাদ্য  নিয়ে সঙ্কটে পড়েছেন পানি বন্দী মানুষ। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার ৩৩টি বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বন্যার পানি প্লাবিত এলাকা গুলোর সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাজিরা উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন এর জাজিরা, নাওডোবা, পূর্ব নাওডোবা, বিলাশপুর, পালেরচর, কুন্ডেরচর, বড়কান্দি, নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর, ঘড়িসার, চরআত্রা, নোয়াপাড়া, ভেদরগঞ্জ উপজেলার উত্তর তারাবুনিয়া, কাচিকাটা, চরবাঘা, চরসেনসার ও গোসাাইরহাট ্ উপজেলার আলালপুর, কোদালপুর ইউনিয়নের গ্রাম গুলোতে অধিকাংশ বাড়িতে পানি প্রবেশ করা শুরু করেছে। গ্রামের অনেক বাসিন্দারা ঘরের মধ্যে উচু বাঁসের মাচা তৈরি করে মানবতার জীবন যাপন করছে। এছাড়া গবাদী পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন পরিবার গুলো।  গ্রাম গুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির চরম সঙ্কটে পড়েছে গ্রামবাসী। পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে প্রবল ¯্রতে নদী ভাংঙ্গনের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। ভাংঙ্গন কবলীত এলাকার লোকজন তাদের বসত ঘরের আসবাপত্র ও গবাদী পশু নিয়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছেন। বন্যার পানি প্রবেশ করায় জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার ৩৩টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত রয়েছে।

পদ্মার ভাংঙ্গনে বসতবাড়ি, ফসলী জমি ও পুকুরের মাছ হারিয়ে জাজিরা উপজেলার ইয়াকুব বেপারীকান্দি গ্রামের কুদ্দুস চোকদার বলেন, সবতো হারিয়েছি এখন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোথায় যাবো তা জানিনা। ঘরে খাবার নাই, কি খাইয়া বাচুম। খাবার কেনার টাকা নাই, আশ্রয় নেয়ার জায়গাও নাই। আল্লায় জানে আমাগো কি অইবো।

পদ্মার ভাংঙ্গনের শিকার মনির চোকদার বলেন, পদ্মতো আমাগো সবি খাইলো, এখন আমাগো কপালে কি আছে জানিনা। মাথার উপর বৃষ্টি নিচে বন্যার পানি ও তার সাথে নদী ভাংঙ্গন। এ অবস্থায় আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। সরকারী সাহায্য সহযোগিতা এখনো পাই নাই। আমাগো সাহায্য কে করবো।

এদিকে, কৃত্তীনাশা ও আড়িয়ালখাঁ’র নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়া শরীয়তপুর সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও সদর পৌরসভার নিন্ম অঞ্চল গুলোতে বন্যার পানি ঢুকতে শুরু করেছে।

নদীগর্ভে বিলীন ও বন্য পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আজ রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি এক জরুরী সভার আয়োজন করেন। সভায় শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হোসাইন খান জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ্য মানুষকে সহায়তা করার জন্য ইতিমধ্যে ৫লক্ষ টাকার খাদ্য সমগ্রি ও ৪লক্ষ টাকা নগদ অর্থ ত্রান মন্ত্রনালয় থেকে পাওয়া গেছে। দ্রুত এসব খাদ্য ও নগদ অর্থ জেলা প্রশাসকের মনিটরিং কমিটি ও জেলা ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে বিতরন করা হবে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ্য মানুষগুলো তির্থের কাকের মতো চেয়ে আছে এক মুঠো খাবারের জন্য। এই অসহায় মানুষ গুলোর সরকারের  পাশাপাশি বৃত্তবানদেও সহযোগিতায় এগিয়ে আসা উচিত।