গাইবান্ধায় পানি কমলেও চরম দুর্ভোগে পানিবন্দি ৪ লক্ষাধিক মানুষ!

গাইবান্ধা প্রতিনিধি, | মঙ্গলবার, আগস্ট ২, ২০১৬
গাইবান্ধায় পানি কমলেও চরম দুর্ভোগে পানিবন্দি ৪ লক্ষাধিক মানুষ!
গাইবান্ধার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ঘাঘট, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, করতোয়া ও আলাই নদীর পানি কমতে থাকলেও মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। সোমবার দুপুর পর্যন্ত ঘাঘট নদীর পানি ২২.১৩ সে: মি. ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ২০.২৭ সে. মি. বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে গত ১০ দিন ধরে জেলার চার উপজেলার ৩২ ইউনিয়নের পানিবন্দি ৪ লক্ষাধিক মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

বন্যা কবলিত গাইবান্ধা জেলার সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার বানভাসী মানুষ দুর্ভোগের সঙ্গে খেয়ে না খেয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উচু জায়গায় অবস্থান নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। আবার অনেকেই খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। এর মধ্যে এসব বানভাসি মানুষ সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি সংকট ও ল্যাট্রিন সমস্যা প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি গবাদি পশুর মধ্যে গরু-ছাগল নিয়েও বিড়ম্বনায় পড়েছেন অনেকে।

এদিকে গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি হাট, তহশিল অফিস, ফুলছড়ি এবং সাঘাটার ভরতখালির হাট তিনটি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। হাটের উপর দিয়ে এখনও নৌকা চলছে। বৃহত্তর হাট তিনটি পানিতে ডুবে যাওয়ায় এলাকার মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বেচাকেনা বন্ধ হয়ে গেছে।

অন্যদিকে, গাইবান্ধার ফুলছড়ি-সাঘাটা সড়কের ২০টি পয়েন্টে সড়কের উপর দিয়ে তীব্র বেগে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ওই সড়ক দিয়ে ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার সাথে গাইবান্ধা জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে জনগণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গাইবান্ধা সদর উপজেলার ঘাঘট নদীর বন্যানিয়ন্ত্রণ সোনাইল বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে নতুন করে আরও ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ২০ হাজার মানুষ। এছাড়া ফুলছড়ি উপজেলা সদরের উড়িয়া-কালির বাজার, কাঠুর-কালিরবাজার, হাজিরহাট-উদাখালি এবং সিংড়িয়া-কালিরবাজার সড়কের ৫টি ব্রিজ ধসে গেছে।

বন্যার কারণে পানিতে ডুবে ইতোমধ্যে গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলায় শিশুসহ দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যায় চার উপজেলার ১৬০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক বিধ্বস্ত, ৬৫০টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে, ১৮ হাজার ৭১২ হেক্টর জমির শাক-সবজি, আমন বীজতলা তলিয়ে নষ্ট হয়েছে। এছাড়া বন্যার কারণে চার উপজেলার ২৭ ইউনিয়নের ১৭৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সেই সঙ্গে আগামী ৩ তারিখের নির্ধারিত দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা নিতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন শিক্ষকরা।

গাইবান্ধা জেলা সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু চৌধুরী জানান, বন্যা কবলিত ৪টি উপজেলায় ৭৫টি মেডিকেল টিম স্বাস্থ্যসেবায় কর্মরত রয়েছে। তারা প্রতিদিনেই বন্যা কবলিত মানুুষকে খাবার সেলাইন, পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেটসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কুমার সরকার জানান, গাইবান্ধা জেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত নদ নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। ভাঙন ও হুমকির মুখে পড়া বিভিন্ন এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন কাজ করছে।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আবদুস সামাদ জানান, গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্ত মানুষের মাঝে চাল, নগদ টাকা ও শুকনো খাবার বিতরণ অব্যহত রয়েছে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বন্যার্ত এলাকায় গিয়ে পানিবন্দী মানুষের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং যেকোন ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিচ্ছেন।