বরগুনায় ঝুঁকিপূর্ন ব্রীজ ॥ জীবন বাজী রেখে পারাপার জেলা শহরের সাথে সড়ক জোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

বরগুনা প্রতিনিধি, | রবিবার, আগস্ট ৭, ২০১৬
বরগুনায় ঝুঁকিপূর্ন ব্রীজ ॥ জীবন বাজী রেখে পারাপার
জেলা শহরের সাথে  সড়ক জোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
একটি ভেঙ্গে যাওয়া ব্রিজ সংস্কারের অভাবে ভোগান্তিতে বরগুনা সদর উপজেলার আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নসহ পার্শবর্তি কয়েকটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের। প্রায় দুই বছর পুর্বে কদমতলা বৈকালিন হাট সংলগ্ন মেইন সড়কের খালের উপর নির্মিত আয়রন ব্রিজটি একটি মাল বোঝাই ট্রাকসহ ভেঙ্গে যাওয়ায় সড়ক জোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পরেছে জেলা শহরের সাথে । গাড়ী পারাপার না হতে পারায় ব্যবসা বানিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। অপরদিকে পার্শবর্তী স্কুল কলেজের  শিক্ষার্থীদের পরতে হচ্ছে  প্রতিদিন নানামুখী সমস্যায়। স্থানীয়দের দাবী জনগুরুত্তপূর্ন এ ব্রিজটি দ্রুত নির্মান করে যানচলাচলের ব্যবস্থা করা হোক। তবে এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, খুব শীর্ঘই ব্রিজটি টেন্ডার করে নির্মান করা হবে।
১৯৯২ সালে এলজিইডির তত্বাবধানে বৈকালিন হাট সংলগ্ন মেইন সড়কের খালের উপর এই ব্রীজটি নির্মান করা হয়েছিল। কাঠের পুল, আরএইচডি-কদমতলা হাট, বৈকালিন হাট আয়লা জিসি রাস্তায় ৩২১৫ চেইনেজে এই ব্রীজের দৈর্ঘ্য ২৭ মিটার। প্রায় ৭ বছর আগে এলজিইডির রক্ষনাবেক্ষনের আওতায় ব্রীজটি একবার মেরামত করা হয়েছিল। মেরামতের পরবর্তী সময়ে ২ বছর পূর্বে ব্রীজের ওপর দিয়ে পাথর ভর্তি ট্রাক চলাচলে ব্রীজটি ভেঙ্গে যায়। এরপর ব্রিজটি পুননির্মানের জন্য বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. ধীরেন্দ্র দেবনাথ এমপি ২০১৪ সালের ১৩ আগষ্ট ডিউলেটার দেন।কিন্ত অজ্ঞাত কারনে ব্রিজটি নির্মিত হচ্ছেনা। স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের সহায়তায় বাঁশ, ও গাছের খুঁটি দিয়ে লোহার ষ্ট্রাকচারের উপর কাঠের তক্তা বিছিয়ে জোড়াতালি দিয়ে মানুষ চলাচলের জন্য একটি নরবরে পুল নির্মান করে। বর্তমানে এর বেহাল দশা। যে কোন মূহুর্তে ধ্বসে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা, হতে পারে অনেক প্রানহানি। এর উপর দিয়ে গাড়ী চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় জেলা শহরের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ কারনে ব্যবসা বানিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ভোগান্তিতে পড়েছে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি ইউনিয়নের কয়েক লক্ষাধীক মানুষ। সদর উপজেলার আয়লাপাতাকাটা, আয়লাচান্দখালী এবং পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই ব্রীজ পার হয়ে স্কুল-কলেজ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালতসহ বিভিন্ন ধরনের কাজের তাগিদে হাজির হন বরগুনা জেলা শহরে। তাই হাজার মানুষের পারাপারের একমাত্র অবলম্বন এই ব্রীজ।
বৈকালিন হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লেমুয়া পিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ইটবাড়িয়া কদমতলা সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কদমতলা কলেজসহ প্রায় ১৫ টির বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভীত-সন্ত্রস্ত মনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রয়োজনের তাগিদে ব্রীজের ওপর দিয়ে পারাপার হচ্ছে নিত্যদিন। ব্রিজটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর থেকে স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তারা নিয়মিত ক্লাশ করতে পাছেননা।
লেমুয়া পিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুমাউন কবির বলেন, ব্রিজটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর থেকে স্কুলে শিক্ষার্থী সংখ্যা দিনদিন কমে গেছে। অবিভাবকরা ঝুকি নিয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠাতে পারছেননা। এভাবে চলতে থাকলে পার্শবর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে শিক্ষার্থী শুন্য হয়ে পরার আশংকা করছেন তিনি।
৫নং আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গাজী সামসুল হক বলেন, প্রায় ২বছর পুর্বে এব্রিজটি ভেঙ্গে গেছে। কোন অদৃশ্য কারনে তা নির্মান করা যাচ্ছেনা এজন্য আমরা হতবাক। আমরা দ্রুত ব্রিজটি নির্মানের দাবী জানাই।
এ বিষয়ে আয়লাপাতাকাটা ইউপি চেয়ারম্যান আশ্শাকুর রহমান বলেন, ৩ টি ইউনিয়নসহ, পার্শ্ববর্তী বেতাগী উপজেলার হাজার হাজার মানুষের পারাপারের একমাত্র মাধ্যম এই ব্রীজ। ব্রীজটির অবস্থা এতটাই নাজুক, যে কোন সময় ধ্বসে গিয়ে ঘটতে পারে অনেক বড় ধরনের দুর্ঘটনা।  মেরামত অথবা  নতুন একটি ব্রীজ নির্মান করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জোড় অনুরোধ করছি।
ইতোমধ্যেই ব্রীজের সকল তথ্য এলজিইডির সদর দপ্তর ঢাকায় প্রেরন করা হয়েছে। আমরা আশা করছি খুব শীঘ্রই ব্রীজটি নির্মানের অনুমোদন পাবো এমনটি বললেন, বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম।