গাইবান্ধায় স্ত্রীকে রডের ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ!

গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ | বুধবার, আগস্ট ১৭, ২০১৬
গাইবান্ধায় স্ত্রীকে রডের ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ!
গাইবান্ধার সদর উপজেলায় দ্বিতীয় বিয়ে ও ডাকাতি কাজে বাঁধা দেওয়ায় স্ত্রী মোছা. পারভিন বেগমকে (৩০) গরম লোহার রড় দিয়ে ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

নির্যাতনের শিকার পারভিন বেগম বর্তমানে গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডের ৩৪ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পারভিন বেগম পলাশবাড়ী উপজেলার মহদিপুর ইউনিয়নের গড়েয়ার পাথার গ্রামের আবদুল জোব্বার মন্ডলের ছেলে শাহজাহান মন্ডলের স্ত্রী। এদিকে এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী শাহজাহান মিয়া তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে পলাতক রয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতালে গেলে পারভিনের মা মর্জিনা বেগম জানান, গত ১৭ বছর আগে প্রেম করে শাহজাহানের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। সংসারে জয় (১৩) ও মিম (১০) নামে এক ছেলে ও এক মেয়ের রয়েছে। বিয়ের আগ থেকে শাহজাহান ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিল। কিন্তু বিয়ের পর ডাকাতির বিষয়টি জানতে পেরে তার মেয়ে শাহজাহানকে বাঁধা দিয়ে আসছিলো। এ নিয়ে শাহজাহান প্রায়ই তার মেয়েকে বালিশ চাপা ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল।

তিনি আরও জানান, ডাকাতি কাজে বাঁধা দেওয়ায় শাজাহান দ্বিতীয় বিয়ে করে তার বাড়িতে থাকতো। শাহজাহান তার মেয়েকে প্রায়ই নির্যাতন করতো। পারভিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে শাহজাহান তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে গরম লোহার রডের ছ্যাঁকা দেয়।

পারভিন বেগম জানান, শাহজাহান মূলত ডাকাতি পেশার সঙ্গে জড়িত। তাকে বিভিন্ন সময় ডাকাতি কাজে বাঁধা দেওয়ার জের ধরে সাংসারিক কলহ লেগে ছিল। এ কারণে গত ২ বছর আগে শাহজাহান তার অজান্তে সদর উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামে এক মেয়েকে দ্বিতীয় বিয়ে করে তার কাছে থাকতো। এরমধ্যে ছেলে জয়কে লেখাপড়ার জন্য গাইবান্ধার একটি ম্যাসে রাখা হয়েছে বলে জানান।

তিনি আরও জানান, জয়কে ম্যাসে না রেখে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে রাখেন। জয় তার দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে থাকার বিষয় জানতে পেরে সোমবার বিকেলে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে যান। সেখানে গেলে শাহজাহানের সঙ্গে তার ঝগড়া বাঁধে। এসময় শাহজাহান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী একটি ঘরে আটক করে মারপিট করতে থাকেন। এক পর্যায়ে শাহাজাহান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী একটি লোহার রড আগুনে গরম করে এনে হাত-পিট ও গলাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছ্যাঁকা দেয়। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

পাভিনের বোন লাইলি বেগম জানান, শাহজাহান মূলত ডাকাতি পেশায় জড়িত। তার বোন শাহজাহানকে ভালো পথে কাজ করার কথা বলতো। কিন্তু তার বোনের কথা না শুনে ডাকাতি পেশায় থাকার লক্ষেই দ্বিতীয় বিয়ে করে। এ কারণে শাহজাহান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী এ ঘটনা ঘটান।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মেহেদী হাসান জানান, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। এ ঘটনায় পারভিনের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে শাহজাহানকে আটক করা হবে।