পঞ্চগড়ে শুরু হয়েছে ‘ভাদর কাটানি’ উৎসব

নুরেহাবিব সোহেল | বুধবার, আগস্ট ১৭, ২০১৬
পঞ্চগড়ে শুরু হয়েছে ‘ভাদর কাটানি’ উৎসব
 পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলাসহ উত্তরাঞ্চলের গ্রামে গ্রামে ভাদ্র মাসের শুরুতেই চলছে ঐতিহ্যবাহী ‘ভাদর কাটানি’ উৎসব। ফলে নববধূরা শ্বশুরালয় হতে পিত্রালয়ে গমন  করেছে। উত্তরাঞ্চলের এ ঐতিহ্যবাহী উৎসবে বাপের বাড়িতে যায় নববিবাহিতা বধূরা। শহরে এর প্রভাব কম থাকলেও গ্রামে গ্রামে পালন করা হয় এ উৎ্সব।
এ উৎসবের রীতি অনুযায়ী, কমপক্ষে ভাদ্র মাসের প্রথম দিন হতে দশ দিন পর্যন্ত স্বামীর মঙ্গল কামনায় কোনো নববধূ তার স্বামীর মুখ দর্শন করবে না। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ‘ভাদ্রর কাটানি’র কোনো ব্যাখ্যা না থাকলেও এ অঞ্চলের আদি প্রথা অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের পয়লা তারিখ থেকে শুরু হয়ে যুগ যুগ ধরে পালিত হয়ে আসছে এ উৎসব। ‘নববিবাহিতা বধূ বাবার বাড়িতে নাইওর যাবে’ এই বাক্যটি এখন নববিবাহিত পরিবারের সবার মুখে মুখে। জানা যায়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়সহ বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে এবং ভারতের পশ্চিম ও দক্ষিণ দিনাজপুর মালদহ এবং মুর্শিদাবাদের কোনো কোনো অংশে এই প্রথা চালু আছে। এছাড়াও জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি জেলার কোনো কোনো অংশেও এই প্রথা বাঙালি সমাজে চালু রয়েছে বলে জানা যায়। আধুনিক যুগে ভাদর কাটানির পক্ষে নিরপেক্ষ তর্ক-যুক্তি নাই। তবুও ভাদর কাটানি উৎসব থেমে নেই। যারা মনে প্রাণে বাঙালি যারা বাঙ্গালির রীতিনীতি ও প্রথা মেনে চলেন বা মানার চেষ্টা করেন তাদের নিয়মের ভিতরেই রয়েছে ভাদর কাটানির এই প্রথা। স্থায়ীয় লোকজনের বিশ্বাস, বিবাহিত জীবনের প্রথম ভাদ্র মাসের এক থেকে দশ তারিখ পর্যন্ত স্বামীর মুখ দেখলে পরিবারে অমঙ্গল হবে। তা ছাড়া সাধারণত এ মাসে বিয়ের কোনো আয়োজনও চোখে পড়ে না। প্রচলিত এ প্রথাটি যুগ যুগ ধরে এ অঞ্চলে হিন্দুু-মুসলিমদের মধ্যে চালু রয়েছে। প্রথা অনুযায়ী, কনেপক্ষ শ্রাবণ মাসের দু’-একদিন বাকি থাকতেই বরপক্ষের বাড়িতে সাধ্যমতো বিভিন্ন রকমের ফল, মিষ্টি, পায়েসসহ নানা রকম পিঠা-পুলি নিয়ে যায়। বরপক্ষও সাধ্যমতো তাদের আপ্যায়ন করে। বাড়িতে কনে পক্ষের লোকজন আসায় চারদিকে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। ভাদর কাটানি মুসলিম সম্প্রদায়ের কোনো ধর্মীয় বিষয় না হলেও এ অঞ্চলে আবহমান কাল থেকে প্রথাটি চলে আসছে। এক সময় সভ্রান্ত হিন্দু সম্প্রদায় এ উৎ্সবকে জাকজঁমকভাবে পালন করত। তাদের এ রেওয়াজ ক্রমান্বয়ে এ অঞ্চলের মানুুষকে প্রভাবিত করে। এক পর্যায়ে উৎসবটি এ অঞ্চলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাংস্কৃতির একটি অংশ হয়ে দাঁড়ায়।