বরগুনায় পায়রা ও বিষখালীতে ভাঙ্গন অব্যাহত গোলবুনিয়া ও জিনতলা বেরিবাধেঁ ভাঙ্গন ॥ পঁচাকোড়ালিয়ায় ১০ দোকান নদীগর্ভে

বরগুনা প্রতিনিধি, | শনিবার, আগস্ট ২০, ২০১৬
বরগুনায় পায়রা ও বিষখালীতে ভাঙ্গন  অব্যাহত
গোলবুনিয়া ও জিনতলা বেরিবাধেঁ ভাঙ্গন ॥ পঁচাকোড়ালিয়ায় ১০ দোকান নদীগর্ভে
বরগুনার পায়রা নদী সংলগ্ন গোলবুনিয়া ও বিষখালী নদী সংলগ্ন জিনতলা বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এখানকার অব্যাহত নদীভাঙ্গনে পঁচাকোড়ালিয়ার ১০ টি দোকান নদীগর্ভে। অপরদিকে প্রবল বৃষ্টি ও তীব্র জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে এ এলাকার শতাধিক গ্রাম। দিশেহারা হয়ে পড়েছেন  কৃষক। ইতোমধ্যেই তাদের ফসলী জমিতে ধরতে শুরু করেছে পঁচন। পানের বর মালিকরা এখন থেকেই লোকসানে পড়েছেন। পায়রার ভাঙ্গনে তালতলীর পঁচাকোড়ালিয়া বাজারের ১০ দোকান ও রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। নদীতে বিলীন হওয়া দোকান মালিকরা  হলেন, হিরন, খোকন তালুকদার , ইব্রাহিম হাওলাদার , নজরুল, সাইদুর কাজী, তাপস ,হারেচ ,শহিদ ও শাহজালাল মিয়া । বিষখালী নদীর অব্যহত ভাঙ্গনে বামনার রামনা খেয়াঘাটের ৩ টি দোকান নদীগর্ভে বিলীন।
৮ থেকে ১০ দিন ধরে জিনতলার জালাল মিয়ার মতো অসংখ্য বাসিন্দা বেড়িবাঁধের উপরে ছাপড়া তুলে বসবাস করছেন। একদিকে বসতঘর তলিয়ে গেছে, অন্যদিকে বৃষ্টি হলেই ছাপড়ার ভেতরে পানি ঢুকে সবকিছু ভিজে যায়। অধিকাংশ ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় গত কয়েকদিন ধরে ঘরের চুলা জ্বালাতে পারেন নি। ফলে ওই এলাকার কয়েকশত পরিবারের রান্না-খাওয়া বন্ধ। একদিকে ঘর-বাড়ি হারিয়ে পথে বসেছেন এ গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ তারপর জমির পাকা ইরি ও আমন আবাদের জন্য তৈরি করা বীজতলা প্রায় ৩ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। প্রতিনিয়তই জোয়ারের পানিতে বরগুনা শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক, বাজার সড়ক, পশু হাসপাতাল সড়ক, সিরাজউদ্দীন  সড়কের পাশের ঘর-বাড়ি এবং চরকলোনীসহ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়। এছাড়া জেলার বেতাগী উপজেলার গাবতলী, আলীয়াবাদ, কালিকাবাড়ি, ঝোপখালী। সদর উপজেলার বুড়িরচর, লতাকাটা, ডালভাঙ্গা, চালিতাতলী, গোলবুনিয়া, গুলিশাখালী।
পাথরঘাটার কালমেঘা, পদ্মা, রুহিতা। আমতলীর চাওড়া, আড়পাঙ্গাশিয়া, বালিয়াতলী ও তালতলী উপজেলার ছোটবগী, মৌপাড়া, বড়বগী, জয়ালভাঙ্গা, খোট্টার চর, চরপাড়া, গাবতলী, নলবুনিয়া, নিন্দ্রার চর, আশার চর, ছোট আমখোলা, নিশানবাড়িয়া সহ কয়েকটি স্থানের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
বামনার চেচান,বেবাজিয়াখালী,পুরাতন বামনা,কলাগাছিয়া। আমতলীর পৌর শহরের পুরাতন বাজার, শ্বশ্নানঘাট, বালিয়াতলী,পশুরবুনিয়া, ঘটখালী, গুলিশাখালী, আঙ্গুরকাটা এবং তালতলীর খোট্টারচর,জয়াল ভাঙ্গা, তেতুলবাড়ীয়া, গাবতলী, নলবুনিয়া, চরপাড়া, নিন্দ্রারচর, সোনারচর, ছকিনা, ছোট আমখোলা ও নিশানবাড়ীয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে ফসলী জমি ও বাড়ীঘর তলিয়ে গেছে। বহু পরিবার বাধেঁর উপর আশ্রয় নিয়েছে।
পঁচাকোড়ালিয়ার ফয়সাল সিকদার জানান, তাদের এলাকায় পায়রা নদীর ভাঙ্গন এতোই তীব্র হয়েছে যা সরকার দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মানে পদক্ষেপ না নিলে পুরো বাজারটাই অচিরেই নদীগর্ভে চলে যাবে। ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাকী বিল্লাহ সিকদার বলেন, আমরা নদী ভাঙ্গন রোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে না পেয়ে হতাশ। তারা সর্বদা তাদের কর্মব্যস্ততা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।
নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া দোকান মালিক খোকন তালুকদার বলেন, তাদের  বাজারের ১০ টি দোকান পায়রার তীব্র ভাঙ্গনে চলে গেলেও সরকার থেকে তারা কোন সহযোগীতা পাননি। বরং স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা রেজবিউল কবির তাদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার করে টাকা দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, তারা টাকা চান না চান নদী ভাঙ্গনরোধ।
মানিকখালী গ্রামের লতিফ সিকদার বলেন, দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ না নিলে পুরো বাঁধটি অচিরেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এলাকার মানুষ এখন আতঙ্কে রাতে ঘুমাতে পারছে না। আমরা গোলবুনিয়াবাসী অচিরেই এ দুর্ভোগের  প্রতিকার চাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাউবোর বরগুনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শহিদুল ইসলাম প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, এসব এলাকার বাঁধগুলোর অবস্থা খুব খারাপ, এটা আমি জানতে পেরেছি। গত বছর বাঁধগুলো জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু ওখানে নদীর স্রোত এত বেশি যে বাঁধ দিয়ে ঠেকানো কঠিন। আমরা বাঁধটি সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রনালয়ে আবেদন করেছি। বরাদ্দ পেলে দ্রুত বেরিবাঁধ কাজ করানো হবে।