নরসিংদীতে ডজনে ডিমের দাম বেড়েছে ২০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, | মঙ্গলবার, আগস্ট ২৩, ২০১৬
নরসিংদীতে ডজনে ডিমের দাম বেড়েছে ২০ টাকা
ডিমের দাম আবার বেড়েছে নরসিংদীতে। এক ডজনের দাম ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকা হয়েছে। প্রতি ডজন পাইকারি বাজারে বেড়েছে অন্তত ২০ টাকা। খুচরো বাজারে বেড়েছে ২০-৩০ টাকা। খুচরা দোকানগুলোতে এক হালি ডিম ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাত্র ৬ মাসের ব্যবধানে ডিমের এই অস্বাভাবিক মূল্য দ্বিতীয়বার বৃদ্ধি পেল।  
ডিমের এই মূল্য বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, খামারিরা ডিমের মূল্য বাড়িয়ে দেয়ার কারণে তারাও বাড়তি দরে ডিম বিক্রি করছে। খুচরা বিক্রেতাদেরও একই কথা। পাইকারি বিক্রেতারা ডিমের মূল্য বাড়িয়ে দেয়ার কারণে তারাও দাম বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছে। পাইকারি ও খুচরা সকল বিক্রেতাদেরই অভিযোগ হচ্ছে ডিমের খামারিদের বিরুদ্ধে। খামারিরা যখন তখন তাদের খেয়াল খুশিমত ডিমের মূল্য বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের নিকট থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সরকার ডিমের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। অথচ ডিমের প্রাত্যহিক গ্রাহক হচ্ছে খেঁটে খাওয়া শ্রমিক শ্রেণী। রান্নাবান্নার ঝামেলার কারণে অনেক শ্রমিক দিনে দুইবারই ডিম খায়। ডিমের এই অস্বাভাবিক মূল্যের কারণে শ্রমিক শ্রেণীই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ডিম বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত আগস্ট মাস থেকে ডিমের দাম অব্যাহত গতিতে বাড়তে থাকে। তখন এক সপ্তাহে কুড়িপ্রতি ডিমের মূল্য বেড়ে যায় ৪০ টাকা। সেই থেকে ডিমের দাম খুব একটা কমেনি। খামারিরা ডিমের মূল্য বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। যারা এক কুড়ি ডিম কখনোই কিনে না, তাদেরকে বেশি সবচেয়ে বেশি মূল্যে ডিম কিনতে হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের শ্রমিক শ্রেণির মানুষেরা। এক হালি ডিমের বেশি কিনতে পারে না। তাদেরকে বর্তমানে এক হালি ডিম ক্রয় করতে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা ব্যায় করতে হচ্ছে। ১টি ডিমের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা। কোন কোন এলাকায় ১টি ডিম খুচরা মূল্যে ১২ টাকা দরেও বিক্রি হচ্ছে। ডিমের এই মূল্য অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি এবং সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। যেসব নিম্ন আয়ের মানুষ ১৫০০ থেকে ২৫০০ টাকা মাসিক বেতনে  চাকরি করে তাদের পক্ষে ১০ বা এর বেশি টাকা দিয়ে ডিম কিনে খাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
শিশুদেরকে দৈনিক একটি করে ডিম খাওয়ানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। কিন্তু ডিমের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে লাখ লাখ গরিব শিশু প্রতিদিন ডিম খাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সরকারি হিসাব মতে, বছরে নরসিংদীতে ডিমের বার্ষিক চাহিদা হচ্ছে ২৪ কোটি ৯৬ লাখ। সে ক্ষেত্রে ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে নরসিংদীতে উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৩১ কোটি ডিম। এ ক্ষেত্রে ৫ কোটির অধিকসংখ্যক ডিম অতিরিক্ত উৎপাদিত হয়েছে। এরপরও হঠাৎ ডিমের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, পাইকারি আড়ত থেকে ডিমের দাম বাড়ানো হয়েছে। তারা বেশি দামে কিনে এনে বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।
নরসিংদী প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদীতে ডিম উৎপাদন খামার রয়েছে কমবেশি ৯০০টি। এসব খামারগুলো বর্তমানে সম্পূর্ণ চালু রয়েছে। এসব খামারে কমবেশি ২০ লাখ মুরগি প্রতিদিন ডিম দিচ্ছে। এরপরও ডিমের মূল্য বৃদ্ধির যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ নেই।