নরসিংদীতে গৃহবধুকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ

এম লুৎফর রহমান নরসিংদী প্রতিনিধি | মঙ্গলবার, আগস্ট ২৩, ২০১৬
নরসিংদীতে গৃহবধুকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ
সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ

নরসিংদীতে ফারজানা আক্তার সুইটি (২১) নামে এক গৃহবধুর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাতে জেলার শিবপুর উপজেলার, বাঘাব ইউনিয়নের বাহেরদিয়া গ্রাম থেকে নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবী মেটাতে না পারায় পরিকল্পিতভাবে তাকে পিটিয়ে হত্যা  করে লাশ সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
নিহতের পরিবারের লোকজন জানায়, প্রায় আড়াই বছর পূর্বে শিবপুরের বাহেরদিয়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেন পাঠানের ছেলে আলী পাঠানের সঙ্গে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক একই জেলার মনোহরদীর নোয়াদিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে ফারজানা আক্তার সুইটির বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের ৯ মাসের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন ফারজানাকে বাপের বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা আনার জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্তু ফারজানার পরিবার টাকা দিতে না পারায় তার উপর নির্যাতন করা হয়। এরই মধ্যে ফারজানার স্বামী আলী পাঠান অন্যত্র আরেকটি বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ করেন ফারজানার বাবা জাহাঙ্গীর আলম। এরই ধারাবাহিকতা ও যৌতুকের টাকা নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্ধের সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার রাতে স্বামীর বাড়ি থেকে ফারজানার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে স্বামী আলী পাঠান পলাতক রয়েছে।
নিহতের পিতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য মেয়ের উপর নির্যাতন চালায় জামাই ও তার পরিবারের লোকজন। সে বার বার কান্নাকাটি করে আমার কাছে টাকা চাইতো। আমি গরিব মানুষ যতটুকু পেরেছি ততটুকু দিয়ে স্বামীর বাড়ির লোকদের খুশি রাখার চেষ্টা করেছি। সর্বশেষ ৪ দিন আগে মেয়ের জামাই আবার পাঁচলক্ষ টাকা আমার নিকট থেকে এনে দিতে আমার মেয়েকে চাপ দেয়। আমার মেয়ে টাকা আনিয়া দিতে অস্বীকার করলে এরই জের হিসেবে সোমবার গভির রাতে তার স্বামী সহ বাড়ির সকলে মিলে একযোগে আমার মেয়েকে হত্যা করেছে। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে তার লাশ সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে রাখে।
শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, ফারজানা হত্যাকান্ডের ঘটনায় শিবপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে ফারজানার স্বামী আলী পাঠান, স্বামীর ভাই আসাদ পাঠান, বাকির পাঠান, মোস্তফা পাঠান, পিতা দৌলত পাঠান, ফারুক মিয়া পিতা সাইদ মিয় সহ অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে আসামী করা হয়েছে। মঙ্গলবার
ফাজানার বাবার বাড়ি নোয়দিয়া গ্রামে লাশ নেয়া হলে সেখানে এসময় হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়। গ্রামের শত শত নারী, পুরুষ ও শিশু ফারজানার লাশ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পরে। গ্রাম বাসিরা অবিলম্বে হত্যাকারিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানায়।